সিলেট ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:৪০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯
এহিয়া আহমদ :: ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের ইতিহাসের একটি বেদনা বিধুর দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে তৌহীদি জনতার ব্যানার নিয়ে একটি মিছিল থেকে চেতনার মিনার সিলেট শহীদ মিনারে হামলা ভাংচুর করে একদল উচ্ছৃংখল যুবক। শহীদ মিনারে হামলা ভাংচুর ঠেকাতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন এমসি কলেজ ছাত্র তাহমিদ, ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান সুহিন সহ তিন জন।
শহীদ মিনার ভাংচুর ঘটনার ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি । কেমন চলছে মামলার গতি, আর নিহতদের পরিবারই বা কেমন আছে ।
ভয়াবহ হামলা সংঘাত আর ভাংচুরের এই ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে কি ভাবছেন সিলেটের সুশীল সমাজ ।
২০১৩ সালের ২২ ফেব্রয়ারি মাসে হামলার ঘটনায় ৬ বছর পার হওয়ার পরও কোনো আসামিকে শাস্তি প্রদান করা হয়নি এবং মামলাটি এখনো শান্ত রয়েছে। ভাষার মাসে সিলেট শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা তখন দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়। সিলেটে এ নিয়ে তীব্র আন্দোলন ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য আসামীদের মধ্যে বিএনপি নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও রেজাউল হাসান কয়েছ লোদীসহ ৮৯জনকে আসামি করে এবং ৯০০/১০০০জনকে অজ্ঞাত করে পুলিশ বাদী হয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ধারা (১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩০৭/৩৭৯/৪৩৫/৩০২/৪২৭/৩৪) তথ্যসহ ২০০২ সনের (৩/৪/৬) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ভাঙচুরের মামলায় ২৮ নম্বর ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী এবং ২৯ নম্বর রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, হত্যা মামলায় ২৭ নম্বর এবং বিস্ফোরক আইনে ২৭ নম্বর আসামি। ওই সময় তিনটি মামলায় রেজাউল হাসান কয়েছ লোদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক মাসের বেশি সময় জেল খাটার পর তিনি উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে বের হন। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। মামলাসহ একটি বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।
সূত্র আরো জানায়, শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুর ঘটনার চার্জ গঠন এবং পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি আগামী মার্চ মাসের ১৮ তারিখ মহানগর আদালতে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার চার্জ গঠন এবং পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্বাক্ষীদের মহানগর আদালতে উপস্থিত করা হবে। জানা যায়, ৮৯জন আসামির মধ্যে মহানগর দায়রা জজ থেকে ৫৬ জন জামিনে বাহিরে রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রয়ারি তৌহিদি জনতার ব্যানারে একটি গোষ্ঠী সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। ওই দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক কলেজছাত্র মারা যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সিলেট মহানগর হাকিম আদালতে তিনটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুরের পর সদ্যবিদয়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তখন শহীদ মিনার পরিদর্শন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রতি দেন। পরে ভাঙচুর করা শহীদ মিনারের স্থলে অর্থমন্ত্রী একটি নান্দনিক শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং পরে তা তিনি বাস্তবায়ন করে ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর হাকিম আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী বলেন, আগামী মার্চ মাসের ১৮ তারিখ মহানগর আদালতে চ উপস্থাপন করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার চার্জ গঠন এবং পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্বাক্ষীদের মহানগর আদালতে উপস্থিত করা হবে। মামলাগুলোর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা আছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী জানান, শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুর ঘটনায় মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক গাফিলতি রয়েছে। গাফিলতি না হলে শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুর ঘটনার ৬ বছর পার হওয়ার পরও এখনো অনেক আসামি ধরা ছোয়ার বাইরে। তিনি শহীদ মিনারে হামলা-ভাঙচুর ঘটনার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, শহীদ মিনারে হামলা মানে আমাদের চেতনায় আঘাত করা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd