সিলেট ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার :: উপজেলা নির্বাচনে দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপরীতে সিলেটের ১০ উপজেলায় ১৭ আ.লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে নিজ দলের নেতাদেরই মোকাবেলা করতে হচ্ছে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থীদের। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে কোম্পানীগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে মোকাবেলা করতে বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল বাছির, তার ছেলে শামীম আহমদ, ছেলের বউ জরিনা বেগমও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এমন বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা পর্যায়ের আ.লীগ নেতারা। কাকে রেখে কাকে সমর্থন দিবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্ব›েদ্ব ভুগছেন তারা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলা আ.লীগও।
সিলেট জেলা আ.লীগ নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আ.লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তবে ভোটের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনও সিদ্ধান্ত এলে তা বাস্তবায়ন করবেন তারা।
সিলেট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের। তবে তার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আ.লীগের নেতা নুরে আলম সিরাজী ।
দক্ষিণ সুরমায় আ.লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আ.লীগ নেতা ময়নুল ইসলাম।
ফেঞ্চুগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন। এ উপজেলায় আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন নূরুল ইসলাম।
জৈন্তাপুরে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের আরেক নেতা কামাল আহমদ।
গোয়াইনঘাটে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া হেলালের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দুই প্রবাসী আ.লীগ নেতা। তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের উপদেষ্টা গোলাপ মিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ।
কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল বাছির, তার ছেলে শামীম আহমদ, ছেলের স্ত্রী জরিনা বেগম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াকুব আলী, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল হক ও হাফিজ মাসুম।
সিলেট মহানগর কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন চৌধুরী কানাইঘাটে আ.লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আ.লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল খায়ের চৌধুরী।
গোলাপগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আব্দুল ওয়াহাব।
বিয়ানীবাজার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবুল কাশেম ও কার্যকরী কমিটির সদস্য শামীম আহমদ।
সিলেট জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনও নির্দেশনা আসেনি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্রোহী প্রার্থী যাতে কেউ না থাকে সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd