সিলেট ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিনেমায় দেখা যায় সিনেমার নায়ক পুলিশ অফিসার হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা যেকোন ধরণের নাশকতামূলক কার্যক্রম রুখতে এবং জটিল রহস্য সমাধানে ‘ক্যারিশম্যাটিক’ মেধার সাহায্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন সবকিছু। সিনেমার ঐ গল্পগুলো যে বাস্তব থেকে নেওয়া তার উদাহরণ- সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার, কনস্টেবল ইব্রাহিম ইসলাম সুফন এবং সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া।
দিনের ফকফকা আলোতে শত শত মানুষের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সাথে থাকা অবস্থায় উন্মত্ত কয়েকজন জঙ্গি যদি হাতে ছোরা-চাকু নিয়ে হামলা করে কারো উপর তখন পরিস্থিতি কেমন হয়? ভাবতেই যেনো ভয়ের শিহরণ অনুভব হয়। মাথা ঠান্ডা রেখে সাহস দেখানো দূরে থাক, নিজের জীবন রক্ষার্থে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান অনেকেই। সেদিন হয়েছিলোও তাই। জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ২০১৮ সালের ৩ মার্চ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় জঙ্গি ফয়জুর রহমান ফয়জুল। মাথা ঠান্ডা রেখে এ সময় জালালাবাদ থানার কনস্টেবল ইব্রাহিম ইসলাম সুফন নিজে আহত হয়েও এ হামলা থেকে জাফর ইকবালকে রক্ষায় সচেষ্ট হন। তার এমন জীবনবাজি রেখে সাহসিকতার মূল্যায়নও পেয়েছেন তিনি।
জাফর ইকবাল স্যারের উপর হামলার ঘটনায় ফয়জুলের সহযোগী পাঁচজনকে গ্রেফতার, তার ব্যবহূত কম্পিউটার উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) জ্যোতির্ময় সরকার। শুধু তাই নয় সিলেট শহরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতি স্বাভাবিক রাখতে জ্যোতির্ময় সরকার অসাধারণ কৃতিত্ব দেখান। তাছাড়া বেশ কয়েকটি জটিল ধর্ষণ মামলা, হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন এমনকি ছিনাতাইকারীদের সনাক্ত করে ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারেও বেশ সক্রিয় ছিলেন চৌকস এই অফিসার।
তার অসাধারণ এই কৃতিত্ত্বে জন্য রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা পদক পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জাফর ইকবাল স্যারের উপর হামলার সময় সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেতে যাচ্ছেন কনস্টেবল সুফন। এই দুইজন ছাড়াও সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এবারে বিপিএম সেবা পদকে ভূষিত হচ্ছেন। পুলিশ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে পদক তুলে দেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার এবং কনস্টেবল ইব্রাহিম ইসলাম সুফন এমন বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিসরূপ পদক পাওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন তারা তিনজন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, সিলেট মহানগর পুলিশের তিনজনসহ সিলেট বিভাগে র্যাব-পুলিশের ১৪ জন কর্মকর্তা এবারে পুরস্কৃত হতে যাচ্ছেন। তিনি জানান, পুলিশের কাজের এরকম স্বীকৃতি অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তিনি জানান, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার কিংবা কন্সটেবল সুফনের এমন স্বীকৃতিতে এসএমপির পুলিশ সদস্যরা গর্ববোধ করে। পুলিশ সদস্যরা যখন দেখবে তাদের কমিশনার ভালো কাজের স্বীকৃতিসরূপ এমন পদক পেয়েছেন তখন তাদের মধ্যেও ভালো কাজ করার প্রবণতা তৈরী হবে। তিনি আরো বলেন, ইব্রাহিম সুফনের সাহসিকতার পুরস্কার পাওয়ায় সাধারণ সদস্যরাও অনুপ্রাণিত। সাহসিকতার সাথে কাজ করলে যে পদেই থাকুক না কেনো তার মূল্যায়ন হয়। তিনি অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য পদক পাওয়ায় জ্যোতির্ময় সরকারকেও অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, সিলেট মহানগরের এই তিন পুলিশ সদস্য ছাড়াও সিলেট বিভাগ থেকে এবারে বিপিএম পদক পাচ্ছেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান (সেবা), র্যাব-৯-এর বিদায়ী অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (সেবা) জয়দেব কুমার ভদ্র, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান (সেবা) ও মৌলভীবাজার মডেল থানার এএসআই বিকাশ চন্দ্র দে। আর পিপিএম পদক পাচ্ছেন, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান (সেবা), মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল (সেবা), হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ (সেবা), মৌলভীবাজার জেলা পিবিআইর পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন (সেবা), ওসমানীনগর থানার এসআই মমিনুল ইসলাম (সেবা) এবং জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd