এমপি মানিকের মদদে ‘ছাতকে আ.লীগ নেতা ফারুক খুন

প্রকাশিত: ১০:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮

এমপি মানিকের মদদে ‘ছাতকে আ.লীগ নেতা ফারুক খুন

Manual4 Ad Code

ডেস্ক নিউজ :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজলোর উত্তর খুমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগরে সহ-সাংগঠনকি সম্পাদক ফারুক আহমদকে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ‘মদদে তার চাচাতো ভাই ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ ও তার সহযোগীরা খুন করে’ বলে দাবি করেছেন স্ত্রী রেহেনা বেগম।

Manual6 Ad Code

শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সন্তানদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হসক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা থানা পুলিশের মামলা না নেওয়া ও স্থানীয় বিরোধের কারণে তার স্বামীকে যে খুন করা হয় সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহত ফারুকের ভাতিজা মেডিকেল কলেজ ছাত্র বায়জিদ আলম।

Manual7 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে ছাতক উপজলোর উত্তর খুমরা ইউনিয়নের পুরান মশৈাপুর গ্রামের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনকি সম্পাদক মো. ফারুক আহমদরে স্ত্রী রেহেনা উল্লেখ করেন, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে র্দুবৃত্তরা নৃংশসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে তার স্বামীকে হত্যা করে বিলের পানিতে লাশ গুম করে রাখে। ফারুক ব্যবসার পাশাপাশি তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় কর্মী। অন্যায়, অবিচার ও র্দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। ওইদিন রাতে তিনি নিখোজ হওয়ার পর  পাতলাচুরা বিলের পাড়ে তার পরনের জামাকাপড় পাওয়া যায়। নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর ২৩ জুন লাশের অনুসন্ধান করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লাশের সন্ধ্যান করে ব্যর্থ হয়। ২৪ জুন পাতলাচুরা বিলের পানেিত ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার স্বামীর লাশের সন্ধান মিলে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও গলাকাটা ছিল। লাশ গুম করতে লাশের গলায় ইট বেধে পানিতে ফেলে রাখে খুনীরা। এতো নির্মম ও নৃশংস হত্যাকান্ড ছাতকে আর দ্বিতীয়টি ঘটেছে কি না জানা নেই।

অভিযোগ তুলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও পৃষ্টপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ে অন্যায় ও নানা অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারই চাচাতো ভাই উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ। বিলালের সাথে নানা কারণে র্দীঘদিন ধরে তার স্বামীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিলালের নানা অন্যায় ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় সে আমার স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও বিলালের অন্যায় কাজে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি। ২০১৫ সালে স্থানীয় এলঙ্গি প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি গানরে অনুষ্ঠানে বিলাল মাস্তানী করতে গেলে প্রতিবাদ করেন তার স্বামী। গত ইউপি নির্বাচনে বিলালের পক্ষ না নেওয়ায় তার স্বামীর উপর ক্ষোভের মাত্রা বেড়ে যায়। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গত তিন বছররে ব্যবধানে অন্তত ৫ বার তার ওপর হামলা করে বিলাল ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। গত বছর ছাতক হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিলাল গংরা তার স্বামীর উপর হামলা চালায়।

স্বামীর হত্যার পেছনে এমপির মদদ রয়েছে উল্লেখ করে রেহেনা জানান, তার স্বামীর নৃশংস এই খুনরে ঘটনায় এমপি মানিকের সমর্থনপুষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল ও তার সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ নিরপক্ষে তদন্ত করলে এর সত্যতা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। হত্যার ঘটনায় তিনি ২৫ জুন সন্ধ্যায় ইউপি বিলাল আহমদ ও তার ১০/১২ জন সহযোগীকে আসামি করে ছাতক থানায় এজার দেন। পুলিশ তা গ্রহন করে কপিও দেয়। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলা রেকর্ড না করে এজাহের রিসিভ কপিতে ঘষামাজা করে ফেরত দেয় পুলিশ। এমনকি একই তারিখ দেখিয়ে এসআই অরুপ সাগর কমলগুপ্ত বাদি বানিয়ে থানায় অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করানো হয়। যার জিআর নং-১৮০/১৮। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে ২৭ জুন সুনামগঞ্জ আমলগ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।  ২৮ জুন আদালত তার দায়ের করা মামলাটি পুলিশের দায়ের করা মামলার সাথে সংযুক্ত করে প্রদক্ষেপ নিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং আগামী ৮ জুলাইর মধ্যে গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন। আদালত তার নির্দেশে থানা পুলিশের দায়ের করা মামলাটি যে আইনত হয়নি তাও উল্লেখ করেন।

রেহেনা বেগম দাবি করেন, তার এজাহারটি না নিয়ে যে অজ্ঞাতনামা আসামী করে যে মামলা করা হয় তা খুনিদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। পুলিশের অতি উৎসাহীতে মনে হচ্ছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদই বেশি। তারা জজ মিয়া নাটক সাজানোর জন্যই এমপির ইশারায় মামলা করেছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা তার স্বামী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে এবং  উর্ধতন পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের খোজে বের করার দাবি জানান। এ সময় নিহত ফারুকের শিশু সন্তান ইয়াছিন আহমদ, মেয়ে আরিফা ও জেনিফা, ভাই আতিক মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2018
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সর্বশেষ খবর

………………………..