সিলেট ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট ::আগামীকাল সোমবার লুনি নদী আনফরের ভাঙ্গার উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় অংসগ্রহণ করবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। হাজার হাজার মানুষের শপ্নের সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হওয়ার খবরে আনন্দিত এলাকাবাসী।
জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত জনপদের নাম বিছনাকান্দি। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাত পাহাড়ের গহীনে নয়নাভিরাম দৃশ্যের অপরুপ প্রকৃতি এই বিছনাকান্দি যেন শিল্পীর হাতে আকা এক অনন্য ছবি। সাতটি পাহাড় সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে, মাঝ পথ দিয়ে বয়ে গেছে অনাবিল সৌন্দর্যের ঝর্ণার স্রোত ধারা। এসে পড়েছে বাংলাদেশের সবুজ গালিচায়। এরকম অপুর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাগল পারা হয়ে ছুটে আসেন, ভ্রমণ পিপাসু লোকজন। সাধারণ পর্যটকের পাশাপাশি দেশের প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, সচিব, সেনাবাহিনীর প্রধান, পুলিশ ও র্যাব প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের ভিআইপি লোকজন ভ্রমণ করেছেন বিছনাকান্দি। শুধু দেশের পর্যটক নয়, খোদ ড.গওহর রিজভীর স্ত্রীসহ বহু বিদেশী পর্যটকদের পিপাসা মিটিয়েছে এ বিছনাকান্দি। কিন্তু বিছনাকান্দি প্রবেশ মুখে আনফরের ভাঙ্গা নামক একটি খাল এ অঞ্চলের মানুষ ও দেশ-বিদেশ থেকে ভ্রমন পিপাসুদের জন্য গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার সকল ভোগান্তি দূর হওয়ার পালা। রাত পোহালেই সোমবার হাজার হাজার মানুষের শপ্নের সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, আনফরের ভাঙ্গার খালের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারীর পাশাপাশি রুস্তমপুর কলেজ, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ, ছাড়ার পার ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, কুপারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, কুনকিরি ফারুক আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, গোরাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, ভিতরগুল উচ্চ বিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্বওমি মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেনসহ দুই ডজনের অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। ঐতিহ্যবাহী হাদারপার বাজার ও কুপারবাজারসহ আশে পাশের ছোট ছোট বাজারগুলিতে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ। রুস্তমপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০-২২টি গ্রামের মানুষ বসবাস করে আনফরের ভাঙার ওপারে।
এছাড়া কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মানুষ ও এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রতিদিনের পর্যটক এবং এলাকার মানুষ মিলে কমপক্ষে ২ লাখ মানুষ এ ভাঙ্গা দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। জনবসতিপুর্ণ অঞ্চলের মানুষ আনফরের ভাঙ্গায় একটি ব্রীজের স্বপ্ন দেখছেন দীর্ঘদিন ধরে। আনফরের ভাঙ্গায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে হাজারের উপরে মোটরসাইকেল পারাপার হয়। এ ভাঙ্গায় প্রায় দিন নৌকা ডুবির খবর পাওয়া যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। মাঝপথে নৌকা ডুবে অনেকেই বিলীন হয়ে যায় মেঘালয়ের ঘন কাল স্রোতে। অনেক সময় জীবনের একমাত্র স্বপ্নের মোটরসাইকেলটি তলিয়ে যায় আনফরের ভাঙ্গার পানিতে। সারাদিন পরিশ্রম করে বউ বাচ্চা পরিবারের জন্য নিয়ে যাওয়া দিন মজুরের সদাই টুকু ডুবে যায় পানির স্রোতের ধারায়। এবার মানুষের শপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পালা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd