সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৩
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি বলেছেন, নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের মেধা ও অভিজ্ঞতায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মানুষের সব সমস্যা দূর হবে। মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র বিশেষ ভাবে কাজ করবেন বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার ( ৭ নভেম্বর) বিকেলে নগরভবন প্রাঙ্গনে সিলেট সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হস্তান্তর ও সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি
আরিফুল হককে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, বিদায়ি মেয়র সিলেটকে অনেক বদলে দিয়েছেন। রাস্তাঘাট প্রসস্থ করেছেন। অনেক উন্নয়ন করেছেন। তবুও সিলেট নগরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরো অনেক কাজ করতে হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের উত্তরসূরি নয়া মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেটকে উন্নত নগরে পরিনত করতে কাজ করবেন। সিলেটের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, আগামীতেও থাকবে।
সুধি সমাবেশে সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী আওয়ামী লীগের দেশ ব্যাপি উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সিলেটকে একটি তিলোত্তমা নগরে রূপান্তরের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সিলেটকে একটি আধুনিক, স্মার্ট সিটি হিসেবে রূপান্তরের রূপকল্প বাস্তবায়নে সিলেট নগরবাসির সহযোহিতা প্রয়োজন।
আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগর খ্যাত সিলেটের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আরো বেগবান করতে সকলের সহযোগিতায় তার পরিষদ যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। নগর উন্নয়নে বিদায়ি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করে তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বিগত ১০ বছরে সিসিকের অগ্রযাত্রার প্রসংশা করেন। আগামী দিনে নগর উন্নয়নে সিলেটবাসির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আমি মেয়র নির্বাচিত হলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি সিলেটবাসির মেয়র। নগর ভবন থাকবে রাজনীতি মুক্ত। নগরবাসি সবার জন্য নগর ভবন উন্মুক্ত থাকবে বলেও প্রতিশ্রতি ব্যক্ত করেন।
সিসিকের বিদায়ি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্প্রতির নগরের সিলেটের নগর প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়রের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পেরেছি। আমি কৃতজ্ঞ নগরবাসির কাছে। নগরবাসির নিকট আমি চির ঋনি থাকবো। আপনাদের ভালোবাসায় দুই মেয়াদ মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে একটি জনবান্ধব নগর প্রতিষ্ঠায় নগরবাসির সহযোহিতা পেয়েছি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন টানা ৪ অর্থবছরে কর্মসম্পাদন চুক্তির বাস্তবায়নে দেশ সেরা হয়েছে। নগরের সড়ক প্রসস্থকরণে সিলেটের নাগরিকরা হাজার হাজার কোটি টাকার নিজস্ব ভূমি দান করে দেশের ইতিহাসে বিরল এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। বিদায় বেলা আমি ভূমিদাতাগণ সহ সিলেটের উন্নয়নে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমার পরিষদের দুই মেয়াদে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের উর্ধ্বে উঠে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কাজ করার সর্বাত্মক চেষ্ঠা করেছি। কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় সিলেটের উন্নয়নে কখনো আপোষ করিনি। আজকের পর হয়তো আমি মেয়রের দায়িত্বে থাকছি না। আমি আপনাদেরই মানুষ। যে অবস্থানেই থাকি না কেন সিলেটের উন্নয়নে আপনাদের আরিফকে পাশে পাবেন। নতুন পরিষদের প্রয়োজনে সবধরণের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিদায়ি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নয়া মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে নগর পরিচালনায় কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন।
সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আব্দুল মহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বাধীনতার পর সিলেট পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবরুল হোসেন বাবুল, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল, সিসিকের প্রথম মেয়র প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান বিদায়ি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সিসিকে সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের।
অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানের শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, পবিত্র গীতা, পবিত্র ত্রিপিটিক ও পবিত্র বাইবেল পাঠ করার মধ্য দিয়ে। পরে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদগণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদগণ, জাতীয় ও সিলেটের প্রয়াত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সিলেট পৌরসভা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত চেয়ারম্যান, মেয়র, কমিশনার, কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আত্মার শান্তি কামনা করে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
রজত কান্তিগুপ্ত ও জান্নাতুল নাজনীন আশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিসিকের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফাহিমা ইয়াসমিন। পরে সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর উপর নির্মিত একটি ভিজ্যুায়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয় এবং ভিজ্যুায়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সিসিকের ৪২ ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের পরিচিতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সহ বিশিষ্টজনদের ভিডি বার্তা উপস্থাপন করা হয়।
সুধি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন এ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক সচিব নজরুল ইমলাম খান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াছ শরিফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশিষ্ট শিল্পপতি ইকবাল আহমদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক প্রমুখ।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে নগরভবনের মেয়র কার্যালয়ে বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেন।
দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে আরিফুল হক চৌধুরী নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানান এবং মহানগরীর উন্নয়নে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আর নতুন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান এবং মহানগরীর উন্নয়নে তার পরামর্শ ও সহযোগীতা পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার জিয়ারত করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd