সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতীয় চিনি পাচারে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে পড়ছে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। প্রতিদিনই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেদারসে চিনি আসছে দেশে। এতে করে চোরাকারবারি ও কিছু ব্যবসায়ী লাভবান হলেও রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সীমান্তে চোরাকারবার বন্ধে আইনশৃংখলাবাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও কোনোভাবেই থামছে না সিন্ডিকেটের কারসাজি।
সম্প্রতি ভারতীয় চিনি পাচার সরকারকে চিঠি দিয়েছে চিনি আমদানি ও পরিশোধনকারী একাধিক কোম্পানী। যেখানে সিলেট বিভাগের ভারত সীমান্তবর্তী একাধিক জেলাকে চিনি পাচার এলাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে এখন পর্যন্ত সরকার সংশিদের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা।
সুনামগঞ্জের জেলার সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়- জেলার তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও, বাগলি ও বড়ছড়া সীমান্ত, বিশ্বম্ভরপুর মাছিমপুর ও ডলুরা সীমান্ত, উপজেলার সদর উপজেলার চিনাউড়া ও ডলুরা সীমান্ত ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তের বাঁশতলা, বোগলা ও নরসিংপুরসহ কয়েকটি স্পট দিয়ে প্রতিদিন আনা হচ্ছে ভারতীয় চিনি। সীমান্ত এলাকার নিরীহ স্থানীয় লোকদের দৈনিক মুজুরির ভিত্তিতে ভোররাত ও সন্ধ্যায় এ চিনি সীমান্ত পাচার করা হয়। সীমান্ত এলাকায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুদ করে রাখা হলেও সুযোগ বুঝে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়া হয় এসব চোরাই চিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ি ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান- একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ চিনি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সীমান্ত অতিক্রম করেই তারা ভারতীয় বস্তা পরিবর্তন করে দেশীয় বস্তা দিয়ে চিনি পরিবহন করছে। জেলাসহ জেলার বাহিরে এসব চিনি বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসন ইচ্ছে করলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব চিনি অনত্র পাচার করা হয়। সীমান্তে চোরাকারবারের সাথে বিজিবির কিছু অসাধু সদস্য জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়ারা।
২২ অক্টোবর দিন গত রাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায় অবস্থান করে দেখা চিনি পাচারের সত্যতা নিশ্চিত হন এই প্রতিবেদক। রাত ১ টার পর থেকে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক হয়ে অন্তত ৮-১০টি পিকআপ ভ্যানে করে চিনি শহর থেকে বের হতে দেখা যায়। চিনির বস্তাবর্তী একটি পিকআপে (ঢাকা মেট্টো ন,১৪-১৫২৫) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে মল্লিকপুর এলাকায় গাড়ি থামিয়ে যন্ত্রাংশ ঠিক করতে দেখা যায় চালককে। এসময় চিনির বিষয়ে চালকের সাথে কথা বলতে চাইলে প্রতিবেদকের কথায় সাড়া না দেওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়াও আব্দুজহুর সেতু এলাকায় কিছু যুবককে অবস্থান করতে দেখা যায়। উঠতী বয়সী এসব যুবক সেতু অতিক্রম করার সময় চিনিবর্তী পিকআপকে ধাওয়া করে অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকেন বলে জানা যায়। পথচারি ও পরিবহণ চালকরা জানান, এটি এই এলাকার স্বাভাবিক বিষয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়- বর্তমানে ভারতে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৪ রুপি। ৫০ কেজি বস্তার দাম ২ হাজার ২০০ রুপি। দেশের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়। মুদি দোকানিরাও অবৈধ চিনি কিনে দেশীয় চিনির তুলনায় লাভবান হচ্ছেন। তবে ভোক্তারা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দামেই কিনছেন এই চিনি।
সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবার রোধে বডার গার্ড বিজিবির তৎপর তেমনটা চোখে না পড়লেও চোরাই পাচার রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২৫ অক্টোর ভোরে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সালামপুর গ্রামস্থ তাহিরপুর সড়কে অভিযান পরিচালনা করে ২টি পিকআপ থেকে ৮০ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দসহ দুই চোরাকারবারিকে গ্রেফতার কতরে বিশ^ম্ভরপুর থানা পুলিশ। জব্দকৃত চিনির বাজার মূল্য ৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন)আবু সাইদ বলেন- চোরাচালন বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
সীমান্তে ভারতীয় চিনি চোরচালানের বিষয়ে র্যাপিড একশ্যান ব্যাটালিয়ান র্যাব তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য আসছে। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd