সিলেট ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: এক সময় দেশের প্রত্যেক অঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে মানুষ আসত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা জাফলং-বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে। লাখ লাখ শ্রমিক প্রতিদিন কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন করত। পাথর উত্তোলন থেকে শুরু করে পাথর ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক তাদের শ্রম বিনিময় করত। দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখা বৃহৎ এই কর্মযজ্ঞ বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েক বছর থেকে।
যার ফলে কর্মমুখর এই এলাকার মানুষ এখন জীবিকার তাগিদে চলে যাচ্ছেন অন্য এলাকায়। অনেকেই তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে পাড়ি দিচ্ছেন প্রবাসে। তবে যাদের সাধ্য নেই বিদেশে পাড়ি দেওয়ার তারা চরম দুর্বিষহ দিন পার করছেন। কর্মহীন হয়ে পড়া এলাকার মানুষের ঘরে এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।
দেশের সর্ববৃহৎ এই পাথর কোয়ারিগুলোকে পরিবেশের দোহাই দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটবাসীর শেষ ভরসার জায়গা এই আসনের সংসদ সদস্য। যে কোন বিপদেই তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়ান জনগণের পাশে। তাই সবাই এখন তার দিকে চেয়ে আছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির এলাকায় আগমন উপলক্ষে আশায় বুক বাঁধছেন পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, কোয়ারি যখন খোলা ছিল তখন প্রতিদিন ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা রুজি করা যেত। এখন টমটম মেশিনে সারাদিন কাজ করে মাত্র ২’শ থেকে আড়াইশ টাকা পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে পরিবারের ৭ জন সদস্যের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরিবারের লোকজন না খেয়ে মরার উপক্রম হয়ে যাবে।
পাথর ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের কারণে তাদের বাড়ি-ঘর নিলামে তুলতে আর বাকি নাই। তারা এখন ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে আছেন। এই এলাকার এমপি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এখন যদি ব্যবসায়ীদের পাশে না দাঁড়ান, কোয়ারি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা না করেন তাহলে তারা বেঁচে থাকার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলবেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd