সিলেট ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে রিকশাচালকের যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
সকাল ৯টার দিকে মেডিকেল কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। সেই সঙ্গে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় কলেজ প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় বসেছে কলেজ প্রশাসন।
এর আগে গতকাল বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে ইফতার কিনে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা চালায় এক বখাটে রিকশাচালক। এরপর মেয়েটির চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসার আগে ওই রিকশাচালক পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামে।
যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর এক সহপাঠী ঘটনার বিবরণ জানিয়ে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তারপরই তার অন্যান্য সহপাঠীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারপর এই ঘটনাটি মমেকের হাসপাতালের নানা পেইজে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এক পেইজের পক্ষ থেকে সকাল ৯টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ট্যাটাসটি মেডিভয়েস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
লেডিস হোস্টেলের গেটের সামনে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার ছাত্রীর পক্ষ থেকে, “আমি আজকে সন্ধ্যা ৭টায় LH-এর গেইটে ঢুকছিলাম, আমার সামনে একটা লোক ছিলো, সে লেডিস হোস্টেলের মেইন গেট দিয়ে ঢুকতে চাচ্ছিলো, হঠাৎ গেটের সামনে এসে লোকটা দাঁড়িয়ে গেছে। গেটটা সরু হওয়ায় একজনের বেশি ভেতরে ঢুকা যায় না বা বের হওয়া যায় না। তাই আমিও দাঁড়িয়ে গেছি। আমি জিজ্ঞেস করেছি আপনি কি ভেতরে যাবেন? না হয় একপাশে দাঁড়ান আমি ঢুকবো। সে বললো হ্যাঁ যাবো। আমি বললাম তাহলে যান। লোকটা বললো না আপনি আগে যান। আমি যখনি গেটে ঢুকতে যাবো লোকটা হঠাৎ আমার পিছে এসে তার লুঙ্গি উপরে তুলে ফেলে…। ঘটনা এতোই আকস্মিক ছিল যে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। সম্ভবত ৮ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। এর মাঝে আমি চিৎকার শুরু করলে লোকটি দৌঁড়ে চলে গেছে । রোড ডিভাইডারের মাঝে আরো দুইটা লোক ছিলো। আমার চিৎকার শুনেও তারা কিছু বলেনি।”
এটা ম-৫৫ এর একজন ছাত্রীর গতকাল (১৫/০৫/১৯) সন্ধ্যাবেলার (ইফতারের কিছুক্ষণ পরে) হ্যারেজড হওয়ার কাহিনী। মেয়েটা এই কাহিনীর আকস্মিকতায় এতোটাই ট্রমাটাইজড ছিল যে প্রথমে কাউকে বলতেই পারেনি কিছু। রাত প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে সে তার ফ্রেন্ডদের জানায়।
এই কাহিনী প্রায় রাত ১১টায় প্রাক্তন হোস্টেল সুপার নাহিদ ম্যামকে (সহকারী অধ্যাপক, গাইনোকলজি বিভাগ) জানানো হয়। কাহিনী শোনার পর তিনি বলেন, “সন্ধ্যার সময় কেন বাইরে যাবে? আর সে একা কেন ছিল?”
তারপর এই ঘটনা প্রিন্সিপাল স্যার এবং ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারকে জানানো হয়। তবে প্রিন্সিপাল স্যার ব্যাপারটা আর কাউকে না জানাতে বলেছেন বলে জানান ম্যাম।
তারপর ম্যাম ভিক্টিম ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে তার রুমে আসেন। তার কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শুনেন। তারপর ম্যাম বলেন, “এটা পুলিশ কেস, উনি কেবল ‘মানবতার খাতিরে’ ব্যাপারটা প্রিন্সিপাল স্যারকে জানান। ড্রেসটা যেন না ধোয়া হয়, DNA Test-এ হেল্প করবে।”
তিনি আরো বলেন, “মেয়েরা কোনো কথা শুনে না। ৫-৬তলায় মেয়েরা পড়তে যায়, যদি কোনো মামা এসে চেপে ধরে, উনার কিছু করার থাকবে না।”
যৌন হয়রানির শিকার ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা মেয়েরা নিজেদের হোস্টেল এরিয়ায়ও অনিরাপদ। আজ আমার সাথে হয়েছে, কালকে আমার অন্য বোনদের সাথে হবে। এমতাবস্থায় কলেজ প্রশাসনের ভূমিকাটা কি?”
আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা বিবেকের তাগিদে আর চুপ থাকতে পারছি না! সিনিয়র ভাইয়া আপুদের ও অন্যান্যদের আমাদের সাথে থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি!
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd