সিলেট ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের মানুষ শান্তিপ্রিয় হলেও বর্তমানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা একটি মাদক কারবারি সন্ত্রাসী দলের কারণে অশান্ত হয়ে উঠছে সিলেট নগরী। যে দলের কর্মকান্ড হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদকদ্রব্য বেচাকেনা সহ খুনখারাপিও। যারা প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে প্রতিনিয়ত করে বেড়াচ্ছে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠা সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেটের জালালাবাদ থানার আখালিয়াস্থ নোয়াপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে মুনিম আহমেদ ওরফে মুনিম। অপরজন দক্ষিণ সুরমা থানার ছোনোপাড়া এলাকার আনফর আলীর ছেলে আমিরুল।তাদের সহযোগী মিনহাজ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একটি খুনের মামলা।
জানা গেছে, সিলেটের ব্যবসায়ীদের কাছে, বিশেষ করে লালদিঘীরপারস্থ হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে মুনিম ও আমিরুল চাঁদা আদায়ে করার নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ওরা নিজেরাই একটি রুমের ভেতরে ভাঙচুর করে মোবাইলে ছবি তুলে ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং বলে- ‘চাঁদা না দিলে তোমরা এ ছবি ভেঙেছে বলে ইন্টারনেট্ ছড়িয়ে দেবো এবং তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করে সব ব্যবসায়ীদের জেলে ঢুকিয়ে দেবো।’ ওরা আওয়ামী লীগের কর্মী বলে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবাসযী মহল ও সাধারণ জনতাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আমিরুল ও মুনিমের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিলেটে মাদক কারবারি সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে রয়েছে ১০০ সদস্যেরও বেশি লোক। যাদের দিয়ে আমিরুল ও মুনিম সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই চালাচ্ছে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা, সীমান্ত চোরাচালান চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। তাদের গ্র“পের সদস্যরা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন করে যাচ্চে। নিরীহ ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমিরুল ও মুনিম তাদের সন্ত্রাসী দলের ছেলেদের দিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর করে তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং লোটপাট করে। এছাড়াও প্রতিদিনই তারা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মাঠে নামে নতুন নতুন কৌশল নিয়ে।
জানা গেছে, আমিরুল সিলেটে ২০০৫ সালে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাতো। কিন্তু ধীরে ধীরে সে সৎ রোজগারের পথ ছেড়ে জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে। এছাড়াও আমিরুল একসময় মলম বা অজ্ঞান পার্টির সদস্য ছিলো। শুধু তাই নয়, আমিরুল প্রতারণামূলক ‘জাদুটোনা’ বাণিজ্যের সাথেও জড়িত। যার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। নি:স্ব করছে সহজ-সরল মানুষকে।
এদিকে, একাধিক মামলার আসামি আমিরুল কিছু মামলার বাদিকে জোর করে আদালতে নিয়ে আপসনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে। ২০১৭ সালে রুবেল নামের সিলেটের ছড়ারপারের বাসিন্দা তার অপহরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করলে পরে জোরপূর্বক তাকে ধরে নিয়ে আদালতের আপসনামায় স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করে। ২০১৭ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর আমিরুল ও তার সন্ত্রাসী দলকে সিলেটের হকার্স মার্কেটের জনি স্টোরের মহাজন খালেদ মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সবার সামনে খালেদ মিয়াকে মারধর করে এবং দোকানপাট ভাঙচুর করে টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়।
কুখ্যাত আমিরুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তালিকা
সিলেট কোতায়ালী থানার দ্রæত বিচার আইনে মামলা নং ৪৬, জি আর ৩৬১/২০১৭ইং, এবং ০৬-০১-২০১৬ইং ঢাকা কোর্টের সি আর মামলা নং ৩৯৪/১৫ইং, মামলা নং ৩৯০/১৬ইং মামলা নং মামলা নং ৩৯২/১৫ইং, মামলা নং ৩৯১/১৫ইং, মামলা নং ৩৮৯/১৫ইং, মামলা নং ৩৬৫/১৫ইং , মামলা নং ৬৬৩/১৫ইং, মামলা নং ৩৬৪/১৫ইং, মামলা নং ৩৬১/১৫ইং, মামলা নং ৩৬২/১৫ইং, মামলা নং ৩৫৯/১৫ইং, মামলা নং, ৩৩৮/১৫ইং, মামলা নং ৩৩৭/১৫ইং , মামলা নং ৩৩৬/১৫ইং, মামলা নং ৩৯৩/১৫ইং, মামলা নং ৩৯২/১৫ইং, মামলা নং ৩৮৫/১৫ইং মামলা নং ৩৮৮/১৫ইং, মামলা নং ৩৮৬/১৫ইং মামলা নং ৩৮৭/১৫ইং, অপহরণ মামলা নং জি আর ২২৩/ ৫/০৭/১৭ইং কোতায়ালী।
এছাড়াও এস,এম,পি, সিলেট দক্ষিন সুরমা থানা এফ আই আর নং ১৮, ২১-১১-২০১৪ইং, এস,এম,পি, সিলেট কতোয়ালী মডেল থানাএফ আই আর নং – ৪৩/২১৮, ৩০-০৬-২০১৭ইং, এস,এম,পি, কতোয়ালী মডেল থানাএফ আই আর নং – ৪২/২১৭, ৩০-০৬-২০১৭ইং, বিশেষ ক্ষমতা আইন। ডি এম,পি, চক বাজার থানা এফ আই আর নং-১/১৫৩, ০২-০৭-২০১৬ইং । মামলা নং-৬, ১৬-০১-২০১০ইং, কতোয়ালী থানা মামলা নং ২২ জি আর ২৮৬, ১৬-০৮-২০১৭। তার বিরুদ্ধে এই ৩৩টি মামলাও ছাড়াও আরও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd