সুনামগঞ্জের বৌলাই নদীতে আটকা পড়েছে ৪শতাধিক বলগেট,ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

সুনামগঞ্জের বৌলাই নদীতে আটকা পড়েছে ৪শতাধিক বলগেট,ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

Manual3 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন দিয়ে হালির হাওরে প্রবাহমান বৌলাই নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ার ফলে ৪শতাধিক বালি ও পাথরবাহী বলগেট নদীতে আটকে পড়েছে। এদিকে,সান বাড়ির নৌ-পুলিশ,লালপুরের নৌ-পুলিশ ও টুকেরঘাট নৌ-পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য নৌকা আটক এলাকায় জরুরী বৈঠকের করেছে। স্থায়ী ভাবে এর সমাধান না হলে এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে না নৌ মালিক ও শ্রমিকরা।

Manual4 Ad Code

জানাযায়,নদীর নাব্যকতা সংকটের কারনে গত ১০দিন ধরে জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী বাজার থেকে জলডুব হয়ে পুটিয়া গ্রাম সংলগ্ন বৌলাই নদীতে ১কিলোমিটারের বেশী সীমানা জুড়ে ৪শতাধিক বলগেট নদীতে আটকা পড়া অবস্থায় রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ী ও নৌ-মালিকগন ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা চেষ্টা চালাচ্ছে এই নৌ যানযট থেকে মুক্তির জন্য। তাতে কোন লাভ হচ্ছে না । কারন যতক্ষন না এই নৌ যানযট লাগা অংশে ড্রেজিং করে নদীর খনন করা না হয় ততক্ষন এর সমাধান হবে না বলে জানান ঐ এলাকার স্থানীয় সচেতন জনসাধারন। পরশী নৌরিন’ নামক নৌকার সুকানি বাজিতপুরের চান মিয়া বলেন,১২দিন যাবৎ নদীতে নৌকা আটকা অবস্থায় কঠিন সময় পার করছি। যদি নিয়ম মেনে সবাই নৌকা চালাতো তাহলে এমন তীব্র সমস্যা হতো না। আর নদীতে নাব্যতা সংকটের সমাধান না করা হলে আমাদের দূর্ভোগের শেষ থাকবে। আর আমরা এই ক-দিন আটকে থাকায় এই এলাকায় শাক সবজিসহ অন্যান্য খাবার জিনিসের অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনে খেতে হয়েছে ফলে ক্ষতির শিকার হচ্ছি দৈনিক। আটকে না থাকলে এত দিনে আমরা আমাদের এলাকায় চলে যেতাম। দ্রæত এর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই।

বালু ও পাথর ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন,কামাল হোসেনসহ অনেকেই বলেন,নদীতে নৌ যানযটের কারনে আমরা বড় বিপদে আছি। আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। কারন নৌকায় বালু পাথর দিয়ে পাঠিয়েছি ১০দিন হল এখনও আমাদের পার্ঠির কাছে পৌছায় নি। তারাও মালের জন্য ফোন দিচ্ছে আরও পার্ঠি আছে তারাও মালের চাহিদা রয়েছে কিন্তু দিতে পারছি না। প্রতি বছর এই সমস্যার শিকার হতে হয়। এর সমাধান হওয়া খুবেই প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বাল্ক হেড শ্রমিক ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি মোঃ তুহিন আলম বলেন,অনেক দিন যাবৎ ৪শতাধিক নৌকা আটকে যাবার ঘটনা ঘটছে। বৌলাই নদী ভরাট হয়ে নাব্যতা তৈরি হবার ফলে এই অবস্থার উদ্ভব হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে জরুরী ভিত্তিতে নদী খনন জরুরী।

শফিক মিয়া,রফিক উদ্দিন,রহমানসহ শ্রমিকগন জানান,এই সুযোগে বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের নাম ধরে একটি মহল চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করছে। তবে চাঁদাবাজদের রুখতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। এই যানযটের কারনে দৈনিক যে পরিমান খরচ হচ্ছে তাতে আমরা লাভের পরিবর্তিতে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। আর এই সমস্যা নতুন নয় প্রতি বছর এই দূভোর্গের শিকার হই আমরা। এই সমাধন বর্তমান সরকারেই করতে পারে এখানে ড্রেজিং করে।

লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান বলেন,কেউ যাতে চাঁদাবাজি করতে না পারে এজন্য পুলিশ টহল দিচ্ছে। আমরা এই নৌ-যানযট সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

Manual7 Ad Code

বেহেলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার বলেন,নদীতে কোনো চাঁদাবাজি হয় নি। তবে নদীর খনন ছাড়া স্থায়ী কোনো সমাধান দেখছি না। না হলৈ প্রতি বছর এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে না কেউ।

Manual5 Ad Code

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম আল ইমরান জানান,নদীর ন্্যতা সংকটের কারনে এই যানযট তৈরী হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী সহ নৌ-পুলিশ চেষ্টা করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে নৌ যানযট সমাধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..