সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০১৮
ক্রাইম ডেস্ক :: বিয়ানীবাজার পৌরশহরের চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন আহমদ (৫০) হত্যাকান্ডে জড়িত মূল হোতা ঘাতক জাকির হোসেন সিলেটের আখালিয়া এলাকার অপরাধ জগতের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি, টেন্ডারবাজি সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করে এই জাকির। এমনকি তার আত্মীয়স্বজনও নিস্তার পান নি তার নির্যাতন থেকে। তার প্রমান বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজার এলাকার তার খালার পরিবার। খুনী জাকির জোরপূর্বক বিয়ে করে তার আপন খালাতো বোনকে। সিলেট নগরীর আখালিয়ায় শ্বশুড় আফতাব উদ্দিনের ক্রয় করা ৩০শতক জমিও সে দখল করে রেখেছে। ভাগ্নের দখল থেকে জমি পুনরুদ্ধারের আশায় নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে অনেকটা বাধ্য হন আমেরিকা প্রবাসী আফতাব উদ্দিন এবং তার স্ত্রী সুলতানা বেগম।
এছাড়াও যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠায় কিশোর বয়স থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সর্বশেষ বিয়ানীবাজার পৌরশহরের ব্যবসায়ী সৈবন আহমদ হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার রাত থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে ঘাতক জাকিরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ওঠে। এসব ছবিতে তাকে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, উপদেষ্টা নুনু মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বিধান কুমার সাহার সাথে মঞ্চে বসা দেখা যায়। এছাড়াও তার চাচা ছমির উদ্দিন আখালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এবং চাচাতো ভাই লিমন মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এই সুবাধে জাকির যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং সিলেটের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর আস্থাভাজনদের ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পায়। নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গেট পর্যন্ত সকল ছিনতাই এবং অপরাধ রাজ্যের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক ছিল সে।
এছাড়াও সৈবন হত্যার প্রধান আসামী জাকির চোরাই গাড়ি কেনাবেচাঁর সাথে জড়িত। তার হেফাজত থেকে রক্তমাখা যে মাইক্রোটি পুলিশ উদ্ধার করে সেটিও একটি চোরাই গাড়ি বলে জানা গেছে।
বিয়ানীবাজারের বৈরাগীবাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাকির তার শ্বশুড়বাড়ির এলাকা থেকে সালেহ আহমদ নামের এক আদম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চায়। পরে সামাজিক শালিসে বিষয়টি আর বেশী দূর গড়ায়নি।
জাকিরের স্ত্রীর বড় বোন সিপা জানান, সে আমাদের বাড়িতে আসলে শুধু ঘুমিয়ে কাটাত। বাড়ির বাইরে বেশী বের হতোনা। বেশীরভাগ সময় চট্রগামে থাকতো। সিপা’র কথার সূত্র ধরে সিলেটের বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, নগরীতে অপরাধ কর্মকান্ড করে বিপদ কাটাতে সে আত্মগোপনে শ্বশুড় বাড়ি চলে আসে। তার স্ত্রী রিপাও বেশীরভাগ সময় বাপের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার খশির সড়কভাংনী এলাকায় থাকেন। স্বামীর সকল অপরাধ কর্মকান্ড সম্পর্কে তার জানাশুনা আছে। সড়কভাংনী এলাকার অপর আরেক ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই সে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি আসা যাওয়া করতো। তবে প্রতিবারই সে গাড়ি বদল করে নিয়ে আসতো।
এদিকে বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী সৈবন হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ জাকির হোসেনের ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করেছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে আজহারুল ইসলাম আরিফ জাকিরকে একমাত্র আসামী করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যুবলীগের রাজননৈতিক আশ্রয় এবং প্রভাবশালী মন্ত্রী বলয়ের মোষ্ট ওয়ান্টেড ক্যাডার হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসবেন বহু অপরাধের হোতা জাকির হোসেন। পুলিশের দাবী, জাকিরই গলাকেটে নৃংশস কায়দায় ব্যবসায়ী সৈবনকে হত্যা করেছে এবং সে স্বীকার করেছে এই হত্যাকান্ডের সাথে সে এবং আরো ৪/৫ জন জড়িত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরী কাজের কথা বলে সিলেটে যান বিয়ানীবাজারের জামান প্লাজার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন। পরদিন শুক্রবার সকালে বিয়ানীবাজার-সিলেট সড়কের চারখাই গাছতলা নামক এলাকা থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় পুলিশ সিলেটের আখালিয়া টুকের বাজারের বাসিন্দা সামস উদ্দিনের পুত্র জাকির হোসেনকে আটক করে। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্বীকার করে সে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহতের পুত্র আবির বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd