জাফলং চা-বাগানে বালু খেকোদের আক্রমণ : কর্মকর্তাদের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র বাণিজ্য

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

জাফলং চা-বাগানে বালু খেকোদের আক্রমণ : কর্মকর্তাদের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের পর্যটন জনপদ জাফলংয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে চা-বাগানের নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই ধ্বংসযজ্ঞে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী জাফলং চা-বাগান। অভিযোগ উঠেছে, বাগানের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের পালিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’র ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে চলছে এই লুণ্ঠন।

ক্রাইম সিলেটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাফলং চা-বাগানের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা নদীর পাড় থেকে বালু ও পাথর লোড করার জন্য প্রতিটি নৌকা থেকে ১,০০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বাগানের ভেতর থেকে বালু উত্তোলনের সময় এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে একটি সশস্ত্র বাহিনী। হাতে লাঠি নিয়ে পাহারারত এই বাহিনীর সদস্যরা টাকা না দিলেই সাধারণ শ্রমিক ও এলাকাবাসীর ওপর চালায় অমানবিক নির্যাতন।

অভিযোগের মূল তীর বাগানের তিন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার- রঞ্জন তালুকদার, প্রবাল নন্দী ও সঞ্জু ঘোষের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও তদারকিতেই এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে এই লুণ্ঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে তাদের বিশ্বস্ত সহযোগী বক্কর, সজল সরদার ও শ্রাবণ সরদার। এই চক্রটি বাগানের রাষ্ট্রীয় সম্পদের চেয়ে ব্যক্তিগত মুনাফাকে প্রাধান্য দিয়ে পুরো এলাকায় একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।

সুরক্ষায় ‘লাঠিয়াল’ ও ‘ফেসবুক’ বাহিনী

বালু উত্তোলন নির্বিঘ্ন করতে এই চক্রটি বহুমুখী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

বালু উত্তোলনে কোনো পরিবেশবাদী বা সাধারণ মানুষ বাধা দিতে গেলে লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদা তুলে পুরো প্রক্রিয়াটি সচল রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অনিয়মের প্রতিবাদ করে, তবে তাদের দমানোর জন্য এবং গালিগালাজ করার জন্য একটি বেতনভুক্ত ‘ফেসবুক বাহিনী’ কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, যে হারে বাগানের পাড় কাটা হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমে চা-বাগানের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী চা-বাগান।

বাগানের দায়িত্ব পালনকারী কর্তাব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে ক্রাইম সিলেটকে বালু বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন। কিন্তু তারা এই লুটপাটের বিরুদ্ধে কোন আইনি সহযোগিতা চাননি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে এই ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ ও অসাধু কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। জাফলংয়ের পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় এই লুটতরাজ এখনই বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28  

সর্বশেষ খবর

………………………..