ঘুষ দূর্নীতি ও টেলিভিশন কান্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

ঘুষ দূর্নীতি ও টেলিভিশন কান্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মাদক চোরাচালানে সহায়তা এবং অবৈধভাবে খনিজ বালি-পাথর লুটের অভিযোগে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত কমিটির গঠন
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেল) এবং জেলা পুলিশের একজন পুলিশ পরিদর্শক।

গুরুতর যত অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশে থাকাকালীন ওসি আমিনুলের বিরুদ্ধে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকশ পিস ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালত ওই ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর ভুক্তভোগী আইজিপি বরাবর অভিযোগ করলে আমিনুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা আরও ভারী হয়। সম্প্রতি এক আসামির ভাইয়ের মাধ্যমে আরও মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার (ঘুষ) নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট ও খনিজ সম্পদ লুট
অভিযোগ রয়েছে, থানার কয়েকজন এসআই, এএসআই এবং কথিত ‘সোর্স’ বাবলু ও উজ্জ্বলকে নিয়ে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন ওসি। এই চক্রের মাধ্যমে ভারতীয় মাদক, কয়লা, চুনাপাথর এবং কসমেটিকস চোরাচালান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়।
এছাড়া পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে জাদুকাটা, পাটলাই ও মাহারাম নদী থেকে অবৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলনে সহায়তা করার বিনিময়ে বড় অংকের অগ্রিম ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাসিক আয়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “শুনেছি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি থানায় থাকা অবস্থায় কেউ এসব নিয়ে মুখ খোলার সাহস করবে না, কারণ আমি এসবে জড়িত নই।”

তদন্ত কমিটির সদস্য এবং সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেল) প্রণয় রায় জানান, মঙ্গলবার থেকেই কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সুপার ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28  

সর্বশেষ খবর

………………………..