সিলেট ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ও দেশের বৃহত্তম যাদুকাটা নদী সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী শিমুল বাগান এখন চরম হুমকির মুখে। একদল প্রভাবশালী বালুখেকো চক্রের বেপরোয়া নদী খনন ও পাড় কাটার তাণ্ডবে ধ্বংস হচ্ছে শিমুল বাগানসহ আশপাশের বিপুল সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল এবং মনজুরের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় ও নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেটটি গড়ে উঠেছে। তাদের মদদে স্থানীয় মানিগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী হাছান এবং রানু মেম্বার প্রতিদিন রাতের আঁধারে শিমুল বাগানের তীরবর্তী অংশ কেটে বালু লুটপাট করছে।
প্রতি রাতে ড্রেজার ও শত শত শ্রমিকের সাহায্যে শিমুল বাগানের মূল পাড় কেটে বালু ট্রলারে করে পাচার করা হচ্ছে। এর ফলে বাগানের সীমানা ধসে পড়ছে এবং শত শত শিমুল গাছ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বসন্তকালে লাল শিমুলের চাদরে ঢেকে থাকা এই বাগানটি দেখতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক তাহিরপুরে আসেন। কিন্তু বালুখেকোদের এই অব্যাহত তাণ্ডবের কারণে বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো নষ্ট হচ্ছেই, পাশাপাশি পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। নদীপাড়ের তীব্র ভাঙনের ফলে আশপাশের সাধারণ মানুষের বসতভিটা এবং আবাদি জমিও নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও এসআই নাজমুল ও এসআই মনজুরের সংশ্লিষ্টতা থাকায় থানা পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো বালু চোরদের বিরুদ্ধে কথা বললে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাছান ও রানু মেম্বারের এই বেপরোয়া সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো মানিগাঁও এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইন যেখানে রক্ষা করার কথা, সেখানে পুলিশের লোকই যদি চোরদের পাহারা দিয়ে আমাদের শিমুল বাগান শেষ করে দেয়, তাহলে আমরা কার কাছে যাব? প্রতিদিন রাতে যেভাবে বাগানের পাড় কাটা হচ্ছে, তাতে আর কিছুদিন পর শিমুল বাগানের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।”
তাহিরপুরের এই প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে এসআই নাজমুল, এসআই মনজুরসহ জড়িত হাছান ও রানু মেম্বারকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd