শ্রমিকদলের দুই নেতার ইশারায় জাফলংয়ের অবৈধ কাজকারবার

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬

শ্রমিকদলের দুই নেতার ইশারায় জাফলংয়ের অবৈধ কাজকারবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: প্রকৃতি কন্যা খ্যাত সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং এখন যেন অনিয়ম আর চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য। অভিযোগ উঠেছে, এক সময়ের শাসক দলের মতোই বর্তমানে পুলিশের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে জাফলংয়ের অবৈধ সব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন শ্রমিকদলের দুই প্রভাবশালী নেতা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের নীরবতায় বল্লাঘাট ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় এখন চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি শাহজাহান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন মেম্বারের ইশারায় জাফলংয়ের বালু-পাথর ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে তারা ‘আইনে নয়, লাইনে’ জাফলংকে অশান্ত করে তুলেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

যেভাবে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব
প্রাপ্ত তথ্যমতে, জাফলং বল্লাঘাট কাউসার মিলের নিচের অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন এবং পরিবহনের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
বালুবাহী গাড়ি: প্রতি গাড়ি ১০০০ টাকা। ফেলুডার: প্রতি গাড়ি ১০০০ টাকা। নৌকা: আকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।
সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েকশ গাড়ি ও নৌকা থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ থানা পুলিশ এই দৃশ্য দেখেও অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, শাহজাহান ও হারুন মেম্বারের সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

বালু-পাথর ছাড়িয়ে চোরাচালানেও থাবা
শুধু বালু বা পাথর নয়, জাফলং জিরো পয়েন্ট দিয়ে সীমান্ত পথে আসা অবৈধ পণ্যের চোরাচালান থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে এই চক্র। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এই দুই নেতা নিয়মিত ‘লাইন’ মেইনটেইন করেন। এর আগেও এই দুই নেতার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পাথর কোয়ারির সাইড দখলের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।

বিগত সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সিলেটের অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও, জাফলংয়ে শ্রমিকদলের এই দুই নেতার দাপট কমেনি। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তাদের এই অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে জাতীয়তাবাদী দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে উপজেলা শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি শাহজাহান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন মেম্বারের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জাফলংয়ের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..