সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৪
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজারের বেরিরপাড় এলাকায় দিনে-দুপুরে একদল ক্ষুব্ধ জনতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন মৌলভীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জালাল আহমেদ (৫৭)। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় সবজির আড়ত এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটা করতে পশ্চিমবাজারের সবজির আড়ত এলাকায় গিয়েছিলেন মো. জালাল আহমেদ। বাজারে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল সংঘবদ্ধ লোক আকস্মিকভাবে তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ঘেরাও করে ফেলে এবং প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে এবং হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সবার চোখের সামনে এই তাণ্ডব চলতে থাকলেও বাজারের কোনো পথচারী বা ব্যবসায়ী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।
হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাত ও দেশীয় অস্ত্রের কোপে মো. জালাল আহমেদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই আকস্মিক হামলার বিষয়ে মো. জালাল আহমেদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরিবারের দাবি, গত ৫ই আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারের পক্ষ থেকে মো. জালাল আহমেদকে একাধিকবার বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলতেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে কারো সাথে কোনো শত্রুতা নেই, তাই আমার কোনো ভয় নেই।”
তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের একাংশের কথায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বিগত সরকারের আমলে মো. জালাল আহমেদ রাজনৈতিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছিলেন। সে সময় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর তার হিংস্রতা ও আধিপত্য বিস্তারের নানা ঘটনা জনমনে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার সেই অতীত হিংস্রতার বহিঃপ্রকাশ এবং ক্ষমতার দাপটের কারণেই আজ তাকে এই ক্ষুব্ধ মবের (Mob) আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে খোঁজ নিতে মৌলভীবাজার মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল
ইসলাম-এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd