বিছানাকান্দীতে পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধিতে আনফরের ব্রীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : মন্ত্রী ইমরান
প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২৩
আলী হোসেন, গোয়াইনঘাট :: স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন পরিক্রমায় আরেকটি মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নবাসী। এ ইউনিয়নের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন আনফরের ভাঙা (লুনি নদীর) উপর ব্রীজ নির্মান। চার যুগ অপেক্ষার অবসানের পর সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আনফরের ভাঙ্গায় ৩৪কোটি টাকা ব্যায়ে ব্রীজ নির্মানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)’র ২০২১-২২ অর্থ বছরের ১২তম সভায় পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন হাদারপাড় জিসি সড়কের ৬৫৪ মিটার চেইনেজে লুনি নদীর উপর (আনফরের ভাঙ্গায়) সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে। ২০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪কোটি টাকা। এছাড়াও ৫০০মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ পর্যটক বান্ধব দুইটি সিড়ি সম্বলিত সাশ্রয়ী দৃষ্টিনন্দন আর্টস ব্রিজ নির্মাণ হবে এতে নির্মাণ ব্যায় আরও ৩কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
গোয়াইনঘাট উপজেলায় আনফরের ভাঙ্গাটি এঅঞ্চলের মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্যে’র এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও কল্পনা এসে ভর করে। ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এ এলাকার মানুষের জীবনের নবযাত্রা শুরু হবে। স্বপ্নের ডানা মেলবে দীর্ঘ প্রত্যাশার কাঙ্খিত ব্রীজ নির্মাণে। খুবই জনগুরুত্বপুর্ন এ ব্রীজটি যে শুধু গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুরের জন্য প্রয়োজন তা নয় এটি বিছনাকান্দি পর্যটনে,পাথর কোয়ারিসহ ভারত-বাংলাদেশ স্থল পথে যোগাযোগের অন্যতম একটা মাধ্যম হতে পারে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ’র প্রচেষ্টায় চার যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত করে আলোর মুখ দেখলো আনফরের ব্রীজ।
পর্যটন খ্যাত বিছনাকান্দীতে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম আনফরের ব্রীজ দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা বিছানাকান্দীকে অবলোকন করতে আসলেও আনফরের ভাঙ্গায় কোন ব্রীজ না থাকায় পর্যটকদের পড়তে হয় নানা প্রতিবন্ধকতায়। পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। কেউ স্বস্তিতে ঘুরে যেতে পারেন না এ পর্যটন স্পটের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত। স্থানীয় এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবিতে আনফরের ব্রীজ নির্মাণে ঐ এলাকায় পর্যটক সমাগম কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
এছাড়াও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি ছাড়াও বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এ ব্রিজটি। ব্রীজটি নির্মাণ হলে উত্তর সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট বিছনাকান্দিতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা এই সেতু ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারবে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বিছানাকান্দী পাথর কোয়ারী। বর্তমানে সেতু না থাকায় স্থানীয় এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা নৌকাযোগে বিছনাকান্দিতে যাতায়াত করতে হয়। ব্রীজ নির্মাণের ফলে একদিকে যানবাহন ব্যবস্থা তরান্বিত হবে। অন্য দিকে অল্প সময়ে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বিছানাকান্দী পাথর কোয়ারী ঘুরে দেখা সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করেন। ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে যোগাযোগের দ্বার গোটা দেশের সাংস্কৃতিক দিগন্তকে প্রভাবিত করবে।