রাতের ফেরিতে যাত্রীদের বাঁধভাঙ্গা জনস্রোত

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২১

রাতের ফেরিতে যাত্রীদের বাঁধভাঙ্গা জনস্রোত

Manual1 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে রাতে চলাচলরত ফেরিতেও ঢাকামুখী যাত্রীদের বাঁধভাঙ্গা স্রোত দেখা গেছে। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক, পচনশীল পণ্যের ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, লাশের গাড়ি ও প্রাইভেট গাড়ির পাশাপাশি যাত্রীদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রোববার রাত ৮টা থেকে পর পর ৩টি ফেরি ছেড়ে যায় শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে। দিনভর ঘাটে অপেক্ষারত যাত্রীরা এবং বিকালে ঘাটে আসা যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে এসে আনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠে পড়েন। এ সময় জরুরি সেবার গাড়ি, রোগীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে তুলতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে।

যাত্রীরা কৌশলে রাতের ফেরিকেই বেছে নিয়েছে। স্বাস্থ্যবিধির মানার কোনো বালাই নেই। ভয়াবহ পরিস্থিতিকে নিমন্ত্রণ করে ডেকে নিয়ে আসছে অসচেতন মানুষ। দেশে চলমান করোনা মহামারীর মধ্যে আবার নতুন আতঙ্ক ভারতীয় ধরণ ধরা পড়েছে বাংলাদেশে। বিষয়টি নিয়ে সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে। অথচ সাধারণের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা চলাফেরা করছে ফ্রি স্টাইলে।

Manual2 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনার মহামারির সংক্রমণরোধে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং লকডাউনের পাশাপাশি ঈদে কর্মস্থল ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কিছু উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ ঈদের এক সপ্তাহ আগেই বিকল্প যানবাহনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।

গণপরিবহন, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে মানুষের ঢল নামে শিমুলিয়া ও বাংলাবাজার ফেরিঘাটে। স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত ফেরিকেই বেছে নেয়। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীর ভারে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ফেরিগুলো জরুরি সেবা, লাশ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স বহন করতে পারছিলো না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল দিনের বেলায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিআইডব্লিউটিসি।

হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ করে দেয়ায় শনিবার সকাল থেকে উভয় ঘাটে অসংখ্য যাত্রীর পাশাপাশি জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনসহ মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে। যাত্রীচাপ দেখে শিমুলিয়া ঘাটে আটকে পড়া বিপুল সংখ্যক যাত্রী ২টি বড় ফেরিতে পার করে বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছে দেয়া হয়।

এদিকে বাংলাবাজার ঘাটে আটকে থাকা রোগীর স্বজনদের দাবি তোলে দ্রুত নদী পার হয়ে হাসপাতালে সময় মতো রোগীকে না পৌঁছাতে পারলে রোগী মারা যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। গত দুইদিন পরিস্থিতি আরও বেসামাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার সকাল থেকে পুলিশের পাশাপাশি শিমুলিয়া ঘাটে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবির চেকপোস্ট এড়িয়ে যাত্রীরা ফেরিঘাটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করতে থাকে।

Manual6 Ad Code

মানবিক কারণে সকাল প্রায় ৯টার দিকে শাহপরান নামে একটি রো রো ফেরি কয়েক হাজার যাত্রী নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে আসে। ফেরিতে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও তিনটি পিক আপ এবং গাদাগাদি করে কয়েক হাজার যাত্রী ওঠে। সকাল ৯টা থেকে বেলা প্রায় ১টা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে বাংলাবাজার আসে দুটি ফেরি। সে সব ফেরিতেও শুধু যাত্রী।

অন্যদিকে সকাল প্রায় ৮টার দিকে কুঞ্জলতা ও কুমিল্লা নামের দুটি ছোট ফেরি বাংলাবাজার থেকে শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রোববার দুপুরের পরে সীমিত আকারে ২/৩টি ফেরি চলাচল করে। এ সময় যাত্রী চাপ কিছুটা কমে আসে। তখন কিছু পণ্যবাহী ট্রাক, জরুরি রোগীবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পার করা হয়। কিন্তু বিকালে যাত্রীর চাপ আবার বেড়ে যায়।

রোববার রাতে বাংলাবাজার ঘাটে কথা হয় খুলনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী জাহিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মানুষের ভিড়ে দিনের কোনো ফেরিতে উঠতে পারিনি। ভাগ্যের জোরে সন্ধ্যার ফেরিতে উঠতে পেরেছি। রোজা ছিলাম মানুষের ভিড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে শিমুলিয়া থেকে আবার ঢাকা যেতে হবে।

সাহিদা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আমার দাদী গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ। তাকে দেখতে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর এসেছিলাম। প্রায় ৯ ঘণ্টা ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে অবশেষে রাত ৮টার ফেরিতে উঠতে পেরেছি। প্রচণ্ড ভিড় দাঁড়াতেও কষ্ট হচ্ছে। অনেকের মুখে মাস্ক নেই।

Manual7 Ad Code

বাংলাবাজার ঘাটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রোববার দিনে যে সব ফেরি চলাচল করেছে, তা জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছিল। চলাচলরত ফেরিতে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স, বেশকিছু মোটরসাইকেল পার করা হয়েছে। যাত্রীদের চাপ ছিল প্রচুর। রাতের ফেরিতেও ঢাকামুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।

Manual8 Ad Code

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরি ঘাটের ম্যানেজার সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাতে আমাদের সবগুলো ফেরি অর্থাৎ ১৬টির মধ্যে ১৫টি চলে। রোববার রাতে যাত্রী চাপ খুব বেশি ছিল। আজকেরটা তো আগাম বলতে পারছি না। মানুষ তো এখন করোনা ভয় পায় না। আমরা যেমন ভয় পাই; এরা ভয় পায় না। অনেকেই মাস্ক পড়ে না, পড়লেও থুতনির নিচে নামিয়ে রাখে।

তিনি জানান, ঘাটে যানজট রয়েছে। এখন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছোট গাড়ি একশ’র মতো এবং ট্রাক আছে ৪ শতাধিক। এগুলো পার করতে করতে আবার এসে জমা হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2021
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..