সিলেট ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন রাজশাহীর নারী নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি। তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসামি নিরুদ্দেশ।
অবশেষে ১১ মে আসামিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরদিন পুলিশ ওই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
গ্রেফতার ওই আসামি হলেন নগরীর কাদিরগঞ্জ দড়িখরবোনা এলাকার বাসিন্দা অলিউল হোসেন বিপ্লব (৪৬)। নগরীর সাহেববাজার এলাকার হিরা জুয়েলার্স নামে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার মায়া বেগম (৪৫) নগরীর শিরোইল শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা। ১২ এপ্রিল নগরীর সাধুরমোড় এলাকার নিজস্ব ছাত্রাবাসে তার ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালান বিপ্লব ও তার সঙ্গীরা। নয়দিন ঘুরে ২০ এপ্রিল মামলা নেয় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
মামলায় বিপ্লককে এজাহারনামীয় একমাত্র আসামি করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৫-৬ জনকে। মামলা নিলেও অদৃশ্য কারণে আসামিকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ সুযোগে আসামি মামলা তুলে নেয়ার চাপ দেন। মিথ্যা মামলায় নির্যাতিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি।
নির্যাতিত নারী জানান, তিনি বিপ্লবের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতা ছিলেন। এ সুবাদে ব্যাংক চেক জমা রেখে ব্যবসার জন্য বিপ্লব তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার নেন। চুক্তি ছিল দুই মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন বিপ্লব। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। বার বার ধরনা দিয়েও টাকা আদায় করতে পারেননি তিনি। ১২ এপ্রিল দুই লাখ টাকা দেয়ার নাম করে তাকে সাধুরমোড় এলাকার ছাত্রাবাসে ডেকে নেন বিপ্লব। ওই সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তার ভাড়াটে বাহিনী। সেখানে চেক ফিরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন বিপ্লব। রাজি না হওয়ায় শুরু করেন মারধর। হত্যার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় চলে নির্যাতন। এ সময় ওই নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টাও চালানো হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয় গলার স্বর্ণের চেইন। মুখ না খোলার শর্তে শেষে ওই নারীকে ছেড়ে দেন তারা।
মায়া বেগম বলেন, আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ধরছিল না পুলিশ। ১১ মে শিরোইল শান্তিবাগ এলাকার একটি বাড়িতে তাকে দেখতে পাই। এ সময় এলাকাবাসীর সহায়তায় আসামিকে ধরা হয়। থানায় খবর দেয়া হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসে তাকে হেফাজতে নেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিন আহম্মেদ বলেন, এলাকাবাসীর সহায়তায় আসামি অলিউল হোসেন বিপ্লবকে আটকে রাখেন বাদী। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। লকডাউনের কারণে আসামিকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা যায়নি। মামলার অন্য আসামিদের শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। অচিরেই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd