গৃহকর্মীর প্রতারণা, কুলাউড়ায় স্বামী-স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২০

গৃহকর্মীর প্রতারণা, কুলাউড়ায় স্বামী-স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরে গৃহপরিচারিকা পরিচয়ে আশ্রয় নেয়া প্রতারক চক্রে সদস্য কর্তৃক প্রবীণ শিক্ষকের বাসা লুটের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ৩ জানুয়ারি বিকেলের দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নবীন চন্দ্র সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীকে চেতনাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে এ চেষ্টা করে ওই চক্র।

ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে আব্দুল বাছিত চৌধুরী (৮০) ও তাঁর স্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরীকে (৬৫) অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সিলেট হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের উত্তরবাজারে নিজস্ব বাসায় শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরী (৮০) ও তাঁর স্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরী (৬৫) বাস করতেন। তাঁদের দুই ছেলে মেয়ে প্রবাসে থাকেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে এক নারী (৩৫) তাঁদের বাসায় আশ্রয় নেন। শুক্রবার দিনের বেলা তাঁদেরকে খাবার অথবা পানীয়তে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে ওই নারী ঘরের মালামাল লুটের চেষ্টা করেন। এসময় প্রতিবেশী কয়েকজন শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরীর বাসায় বেড়াতে আসেন। তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে গৃহপরিচারিকা পরচয়ধারী নারী বিছানায় অচেতন থাকা গৃহকর্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরীর মাথায় হাত বুলিয়ে আহাজারী করতে থাকেন এবং প্রতিবেশী নারীকে বলে আব্দুল বাছিত চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর উচ্চরক্তচাপজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এসময় ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনার কথা বলে ঘর থেকে চম্পট দেয় ওই নারী।

বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশী ওই নারী এলাকার কয়েকজন ও স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনসহ সবাই অজ্ঞান অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা এক নারী বলেন, শুক্রবার সকালে খালা (গৃহকর্ত্রী খালেদা বেগম) আমাকে ডেকে জানান বৃহস্পতিবার রাতে এক নারী গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য বাসায় আসে। তাঁকে গৃহপরিচারিকার জন্য বাসায় রাখা হয়েছে।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রবীণ এ শিক্ষকের অজ্ঞান হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, ডা. আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ মুকুল, ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, পৌর কাউন্সিলর মনজুরুল আলম চৌধুরী খোকনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

এদিকে শিক্ষক দম্পতির ছেলে-মেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেশীরা জানান, ওই মহিলা বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজের কথা বলে শিক্ষকের বাসায় আশ্রয় নেন। শিক্ষকের ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে সুযোগ নিয়ে লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই বাসায় আশ্রয় নিয়েছে এবং দুপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষুধ মিশিয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁদের সাথে থাকা কাউন্সিলর মনজুরুল আলম চৌধুরী খোকন বলেন, আব্দুল বাছিত চৌধুরী স্যারের ও উনার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমকিভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য হতে পারে। এঘটনায় আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁদেরকে চেতনানাশক ওষুধ অথবা অন্যকিছু বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares