২০ টাকার রিচার্জের পরিচয়ে প্রেমের খেসারত ২৫ লাখ টাকা খোয়া!

প্রকাশিত: ৯:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮

Manual1 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : মোবাইল ফোনে ২০ টাকার রিচার্জের পরিচয়ে খুলনার কলেজছাত্রী সুন্দরী মুন্নীর দীর্ঘ চার বছরের প্রেম ও বিয়ে প্রতারণায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বগুড়ার শেরপুরের বকুল। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যতা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

মো. ফিরোজ হোসেন বকুল শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়নের পাঁচদেওলী গ্রামের মৃত আবির হোসেনের ছেলে। মুন্নী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আড়শনগর গ্রামের হামিদুল ওরফে আবদুল হামিদ সরদারের মেয়ে।

Manual1 Ad Code

প্রতারণার শিকার বকুল জানায়, প্রায় চার বছর আগে তার মোবাইল অ্যাকাউন্টে ২০ টাকার রিচার্জ আসে। পরে মুন্নী ফোন করে টাকাটা ফেরত দিতে বলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সময় মুন্নী ডুমুরিয়া উপজেলার একটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাশে লেখাপড়া করতেন।

Manual3 Ad Code

এরপর থেকেই মুন্নী বকুলকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার লেখাপড়া চালানোর অনুরোধ করে এবং লেখাপড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি তার গরিব পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়ভারও চাপিয়ে দেয় বকুলের ওপর।

প্রেমিকার সুন্দর বচনভঙ্গী ও আকুতি বিনয়ে আকৃষ্ট হয়ে এবং নিজে অশিক্ষিত হলেও ভবিষ্যৎ বউ শিক্ষিত হবে মর্মে সেই আনন্দে মুন্নীর লেখাপড়ার জন্য বকুল নিজে খুলনায় গিয়ে খুলনা সিটি পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি করে দিয়ে আসে। তার মাসিক খরচ বাবদ প্রতি মাসে ১৫-২০ হাজার করে টাকা পাঠাতে থাকে চার বছর ধরে।

একই সঙ্গে মুন্নীর পরিবারের অন্য সদস্যদের দৈনন্দিন সব খরচের জন্য নগদ অর্থও পাঠানোর পাশাপাশি প্রতি বছর ঈদে নিজ পরিবারের মতো মুন্নীর পরিবারেও কাপড়চোপড় ও কোরবানির পশু কেনার জন্য টাকাও পাঠাত ভুক্তভোগী বকুল মিয়া।

Manual8 Ad Code

বকুল মিয়া জানায়, প্রায় দুই বছর আগে তার শেরপুরের প্রফেসরপাড়া বাসায় আসে মুন্নী। সেখানে দুই রাত অবস্থান করে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন কথা বলেন।

এদিকে ভবিষ্যৎ বউয়ের ঈদ উৎসব ভালোভাবে পালনের জন্য মুন্নীকে সাত ভরি ওজনের সোনার গয়না ও ১২ ভরি ওজনের রুপার অলংকারও কিনে দেয় ববুল। শুধু তাই নয় মুন্নী খাতুনের মা রানজিদা বেগমকে দুই ভরি, তার খালাকে দুই ভরি ওজনের সোনার গয়না বানিয়েও দেয়। তাছাড়া মুন্নীর ভাই মিলন হোসেন একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি থ্রিজি মোবাইল সেট কিনে দেয়ার পাশাপাশি মুন্নীর লেখাপড়ার কাজে কম্পিউটার কিনে দেয়ার দাবিও করেছেন বকুল।

মুন্নীর চার বছরমেয়াদি পলিটেকনিকে লেখাপড়ার মাসিক খরচ, পোশাক-পরিচ্ছদ, আসবাবপত্র, সোনা-রুপার গয়না, নগদ অর্থ মিলে প্রায় ২৪-২৫ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা জানান বকুল।

এদিকে মুন্নী পলিটেকনিকে লেখাপড়া শেষ করে বকুলকে তার বাড়িতে যেতে বলেন। মুন্নীর বাসায় গিয়ে রাত্রিযাপন শেষে মুন্নীকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে খুলনা জজ আদালতের নোটারি পাবলিকে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে তাকে নিয়ে বগুড়ার শেরপুরের বাসায় আসেন বকুল।

বকুলের বাসায় মুন্নী ২-৩ দিন থাকার পর তার লেখাপড়ার অজুহাত দেখিয়ে খুলনায় চলে যায়। যাওয়ার সময় বকুলের নগদ এক লাখ টাকা ও তাদের বিয়েসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নিয়ে যায়। এরপর থেকে মুন্নী খাতুন আর বকুলের কোনো ফোন রিসিভ বা যোগাযোগ করেনি।

এদিকে মোবাইল ফোনে মুন্নীর ভাই মিলনের সঙ্গে বকুল যোগাযোগ করলে তিনিও প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।

এসব বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মুন্নীর প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হওয়া ভুক্তভোগী ফিরোজ হোসেন বকুল প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..