গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৮

গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ১৫ দিন আগে টাকার জন্য মারধর করলে শামীমা বাপের বাড়ি চলে আসে। গতকাল এক মাসের বাজারসহ তাকে শ্বশুর বাড়িতে দিয়ে আসে আমার চাচাতো ভাই। সকালে শুনলাম বোনটি আমার আর নেই! মুঠোফোনে এভাবেই প্রতিবেদককে বলছিলেন শফিউল আলম।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বুধবার বিকেলে শামীমা আকতার (২২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের ভাই শফিউল আলমের অভিযোগ, শামীমাকে হত্যা করে ঝোলানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. করিম বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ফোনে বিষয়টি জানালে, সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিয়েছিলাম।’

বোয়ালখালী থানার উপ-পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরের ছাদের বিমের সঙ্গে শাড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শামীমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।’

শামীমা কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লুধুরি পাড়ার গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী। জান্নাত আকতার নামের দেড় বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে তাদের।

স্থানীয়রা জানান, গত তিন বছর আগে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও বাণী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে শামীমার সঙ্গে গিয়াস উদ্দিনের বিয়ে হয়েছিলো। গিয়াস এলাকায় লেবু ব্যবসার পাশাপাশি গাড়ি চালান।

নিহত শামীমার বড় ভাই শফিউল আলম জাগো নিউজকে জানান, ‘বিয়ে পর থেকে স্বামী গিয়াস যৌতুকের জন্য প্রায় সময় মারধর করতো শামীমাকে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। বোনের সুখ-শান্তির কথা ভেবে গিয়াসের দাবি অনুযায়ী সম্প্রতি ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ দিন আগে আবারও টাকার জন্য মারধর করলে শামীমা বাপের বাড়িতে চলে আসে। মঙ্গলবার চাচাতো ভাই শামীমাকে এক মাসের বাজারসহ গিয়াসের বাড়িতে দিয়ে আসে। এ সময় শামীমাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি গিয়াস। সন্ধ্যায় গিয়াসকে অনেক মিনতি করলে ঘরে ঢুকতে দেয়।

শামীমার শাশুড়ি ফরিদা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে গিয়াসের শোরগোল শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে জানতে পারি, গিয়াস প্রস্রাব করার জন্য ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। পরে দা দিয়ে চাল কেটে গিয়াস ঘরে ঢুকে এ ঘটনা দেখতে পায়।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares