শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকান্ড বাবুলের শালিকা সাথীকে খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৮

শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকান্ড বাবুলের শালিকা সাথীকে খুঁজছে পুলিশ

Manual1 Ad Code
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : শায়েস্তাগঞ্জে কিশোরী বিউটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের আলোচিত ঘটনার পেছনে পুলিশের গাফিলতি রয়েছে কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গঠিত তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য তার আত্মীয়-স্বজনদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয় ওই কমিটিকে। এর পরপরই তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। ওই দিন সন্ধ্যায়ই নিহত বিউটি আক্তারের মা-বাবাকে থানায় ডেকে তদন্ত কর্মকর্তার কোনও গাফিলতি আছে কি-না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা ও সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন।এদিকে, অভিযুক্ত ঘাতক বাবুলের শালিকা সাথী আক্তারকে খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতা ছিল সাথীর। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।
Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে নিহত বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বলেন, ‘পুলিশ এখন নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছে আমাদের।’ বিউটি ধর্ষণের মামলা থানায় না করে আদালতে কেন করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদ আলী বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের করি।’

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিউটি হত্যাকান্ড ও ধর্ষণের বিষয়ে পুলিশ কোনও পর্যায়েই অবহেলা কিংবা গাফিলতি করেনি। যখনই মামলাটি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বাবুলের মা-সহ দু’জনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। বাবুলকে গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে’।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ স ম শামছুর রহমান ভূইয়া বলেন, ‘তদন্ত শুরু করেছি। এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ‘মামলার শুরুতেই পুলিশের কোনও গাফিলতি কিংবা অবেহলা আছে কি-না বা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কোনও ধরনের অবহেলা ছিল কি-না বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে হচ্ছে’।

Manual7 Ad Code

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এরপর এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানা-জানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

Manual8 Ad Code

এদিকে, বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ইসমাইলকে আটক করে। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।সূত্র-habiganj-samachar.com

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..