নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই নার্স আটক

প্রকাশিত: 12:11 AM, November 17, 2017

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে চার সহস্রাধিক নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত হোতা দুই নার্স নেতা গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে সাইফুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম নামে দুই নার্স নেতাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে তারা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রয়েছেন। যদিও গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক বা গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তবে জাগো নিউজের কাছে তাদের আটকের নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।
আটক দুজনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) শাখার নির্বাচিত ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরিফুল ইসলাম স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ আনিস গ্রুপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এদের একজন ঢামেক জরুরি বিভাগে ও অপরজন মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত।
গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রধান হোতা। একশ্রেণির অসৎ, অর্থলোভী পিএসসি ও নার্স নেতাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে সারাদেশে প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন তারা। এ দুইজন আটক হওয়ার পর নার্স নেতাদের অধিকাংশই নানা অজুহাতে কর্মস্থলে গড় হাজির থাকছেন। আবার কোনো কোনো নার্স বিএমএর এক শীর্ষ নেতার মাধ্যমে তদবির করে আটক দুজনকে ছাড়িয়ে নেয়ার অপচেষ্টার পাশাপাশি আরও যেসকল রাঘব-বোয়াল নার্স নেতার নাম তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তাদের নাম কাটিয়ে দেয়ার কাজ করছেন।
ধরা পড়া নার্স নেতা সাইফুল ইসলাম, বৃত্তে।
গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর ১০টি কেন্দ্রে মোট চার হাজার ছয়শ সিনিয়র স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাযেন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি তিন হাজার ছয়শ ও মিডওয়াইফ এক হাজার) নিয়োগ পরীক্ষার বিপরীতে ১৬ হাজার নয়শ’জন নার্স অংশগ্রহণ করেন।
শিউলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, কামিনী নামে চার সেটের প্রশ্নপত্র ছাপে পিএসসি। কিন্তু সব সেটের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পরীক্ষার আগে পাওয়া যায়।
একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাওয়া যায়। পরীক্ষার হলে গিয়ে তারা দেখেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কয়েকজন নার্স নেতা (কা, আ, সা, ফা, জা ও র আদ্যক্ষরের) প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নেমে প্রমাণ পেয়ে আ ও সা আদ্যাক্ষরের নেতা আরিফ ও সাইফুলকে আটক করে।
ধরা পড়া নার্স নেতা আরিফুল ইসলাম, বৃত্তে।
পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পেয়ে অনিবার্য কারণে পরীক্ষা বাতিল করে পিএসসি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোয়েন্দা পুলিশ প্রথমে আরিফুল ইসলামকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে তার এন্ট্রি নম্বর ৪৯১৭৫/৮২। গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই রেজাউল তাকে নিয়ে যান বলে হাসপাতাল রেজিস্ট্রার সূত্রে জানা গেছে।
তবে রেজাউলের সঙ্গে যোাগাযোগ করা হলে তিনি আরিফুল নামে কাউকে সেখানে নিয়ে যাননি বলে দাবি করেন। সূত্র জানায়, আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাইফুলকে আটক করা হয়।
তবে নার্স নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই নার্সকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জাগো নিউজকে বলেন, ডিবি পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় কাউকে আটক করেনি। অন্য কোনো টিম আটক করে থাকতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2017
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..