সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক :: গতকাল ২২/০৭/২০০৯ইং বুধবার রাত ১০.১৫ মিনিটের সময় গোলাপগঞ্জ উপজেলাধীন বাঘা ইউনিয়নের অর্ন্তগত গৌরাবাড়ি, বাঘা মনোরঞ্জন দেব বসত বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ কর্মী মনোরঞ্জন দেবকে ধারালো রামদা দ্বারা হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার বাঘা গৌড়াবাড়ি এলাকা মূলত জামাত শিবিরের অধ্যুষিত এলাকা। এই কেন্দ্রে সবসময় বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আসছে। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য ও আওয়ামীলীগ কর্মী মনোরঞ্জন দেব এর প্রচেষ্ঠায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিজয় লাভ করে। ঘটনার সূত্রপাত ২৬/১২/২০০৮ইং তারিখ দুপুর বেলা, ঐদিন বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামীলীগ দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করিয়া সরকারের দালাল, পাতিনেতা, চাটুকার ইত্যাদি আখ্যা দিয়া শ্লোগান দিতে থাকে। সেসময় আওয়ামীলীগ কর্মী মনোরঞ্জন দেব বিএনপি, জামায়াত কর্মীদের এরূপ মন্তব্য করা হতে বিরত থাকার জন্য বলিলে তাহাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। উক্ত বিষয়টি এলাকার মুরব্বিয়ানগণ মিমাংসা করিয়া দিলেও বিএনপি, জামায়াত কর্মীরা সাময়িক নিরব থাকিলেও তাহাদের মনের ক্ষোভ ক্ষান্ত হয়নি। উক্ত বিরোধের জেরে গতকাল রাত ১০.১৫ মিনিটের সময় মনোরঞ্জন দেব-এর বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগালি করত: গৃহে প্রবেশ করিয়া আসবাবপত্র ভাংচুর করিতে থাকে। তখন মনোরঞ্জন দেব তাহাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করিলে বিএনপি নেতা রফিক উদ্দিন এর হুকুমে বিএনপি কর্মী জাবিদ আলীর হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মনোরঞ্জন দেবের মাথায় আঘাত করিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করিলে মনোরঞ্জন দেব মাঠিতে লুঠাইয়া পড়েন। তখন মনোরঞ্জন দেবের স্ত্রী আগাইয়া আসিলে সমূহ রফিক উদ্দিন গং তাহাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করে। ঘটনার সংবাদ পাইয়া মনোরঞ্জন দেব এর বড় ভাই নিরঞ্জন দেব বাড়ীতে আসিলে এবং মনোরঞ্জন দেব এর স্ত্রীর শোর চিৎকার শুনিয়া এলাকার লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে রফিক উদ্দিন গং মনোরঞ্জন দেব এর মৃত্যু হইয়াছে অনুমান করিয়া তাহারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তখন নিরঞ্জন দেব ও উপস্থিত এলাকার লোকজন মনোরঞ্জন দেবকে উদ্ধার করিয়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাহাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মনোরঞ্জন দেব, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মাথায় কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বিকাল ০৫.০০ ঘটিকার সময় নিহতের বড় ভাই নিরঞ্জন দেব বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় ১। রফিক উদ্দিন (৩৫), পিতা- শমসের উদ্দিন, ২। ফারুক উদ্দিন (৪০), পিতা- মৃত জমির উদ্দিন, উভয় সাং- বাঘা, ৩। জাবিদ আলী (৩৬), পিতা- মনসুর আলী, সাং- জালালনগর, ৪। ধারা মিয়া (২৫), পিতা- মনফর আলী, সাং- দৌলতপুর, ৫। রমজান আলী (৩০), পিতা- শুকুর আলী, সাং- মজিদপুর, ৬। শুকুর আলী (৫০), পিতা- মৃত গয়াছ আলী, সাং- খালপার, ৭। রাজা মিয়া (২৮), পিতা- আব্দুল হাই, সাং- রুস্তুমপুর, সর্বথানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট-দের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ০৭/০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয় যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসীরা মনোরঞ্জন দেব এর বাড়ীতে আসিয়া ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করিয়া হত্যা করে। নিহতের ভাই জানান, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকান্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধান আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
মামলা দায়েরের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
Sharing is caring!

| S | S | M | T | W | T | F |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | ||||
| 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 |
| 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 |
| 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 |
| 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 |

………………………..

Design and developed by best-bd