সিলেটে খাস ভূমিতে মুক্তিযোদ্ধা পল্লী নামে প্লট বাণিজ্য, নেপথ্যে জামাল পাশা

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪

সিলেটে খাস ভূমিতে মুক্তিযোদ্ধা পল্লী নামে প্লট বাণিজ্য, নেপথ্যে জামাল পাশা

Manual7 Ad Code

মহানগর সংবাদদাতা: পাহাড় ও টিলা ঘেরা আখালিয়ার টিলার গাঁও। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের গেজেটধারী অসহায় মুক্তিযোদ্ধারা ঠাঁই পাবেন এই এলাকায়।

 

সরকারি এস/এ ২১৪০ নং দাগের ৬.৬০ একর খাস টিলায় মুক্তিযোদ্ধা পল্লী গড়তে ২০১১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মির্জা জামাল পাশা। কিন্তু লিজ না পেয়েও ৬.৬০ একরের বিশাল কয়েকশো ফুট উঁচু টিলা কেটে গড়ে তুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা পল্লী। তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে টিলায় ৭০-৮০ টি পরিবারের বসবাসের সুযোগ থাকলেও নির্বিচারে টিলা কেটে ঢালে ঢালে বসতি স্থাপন গড়ে তুলছেন শতাধিক পরিবার। যা বর্তমানে দৃশ্যমান।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের নামে লিজ চাইলেও মোটা টাকার বিনিময়ে নামে-বেনামে প্লট বিক্রি বানিজ্যের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মির্জা জামাল পাশা। এমন অভিযোগ করেছেন টাকার বিনিময়ে প্লট বরাদ্দ পাওয়া একাধিক পরিবারও। একই প্লট একাধিক পরিবারের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ মির্জা জামাল পাশা বিরুদ্ধে করেছেন অসংখ্য পরিবার।

 

মির্জা জামাল পাশার ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযুদ্ধার সন্তান জানান- তিনি মির্জা জামাল পাশার নিকট হইতে দশ শতকের একটি প্লট তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন। তিনি আরোও যোগ করেন সরকারি খাস টিলা সরকার যদি যথাযথ প্রয়োজন মনে করে তাহলে অসহায় মুক্তিযুদ্ধাদের নামে বরাদ্দ দিবে কিন্তু সরকার থেকে লিজ পাওয়ার আগে মির্জা জামাল পাশা কতৃক টাকার বিনিময়ে এমন প্লট বিক্রির তীব্র্র নিন্দা জানান তিনি এবং সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মির্জা জামাল পাশার বিচারের দাবিও করেন।

 

এভাবে প্লট বানিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মির্জা জামাল পাশা। মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর নাম ভাঙ্গিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্লট বানিজ্যর অভিযোগ এনে একাধিক মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও মির্জা জামাল পাশার কালো টাকার জোরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে টিলা কেটে ঢালে ঢালে বসত ঘর নির্মাণ করা হলেও সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন, আখালিয়া ভুমি অফিস ও স্থানীয় থানা পুলিশ অদৃশ্য কারণে মির্জা জামাল পাশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

স্থানীয় এবং পরিবেশ বাদীদের আশঙ্কা এই এলাকায় মির্জা জামাল পাশার নেতৃত্বে যে হারে টিলা কেটে বসত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে তাতে আগামী বর্ষায় সেখানে ঘটতে পারে ভূমিধস সহ বড় কোন দুর্ঘটনা।

 

Manual1 Ad Code

উল্লেখ যে, গত ২৮/০১/২০২০ ইং তারিখে সিলেটর জেলা প্রশাসক, গত ০৮/০৬/২০২১ ইং তারিখে অফিসার ইনচার্জ এয়ারপোর্ট থানা, গত ২৩/০১/২০২০ ইং তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক, গত ১১/০৮/২০২৩ ইং তারিখে উপ-পুলিশ কমিশনার সিলেট (উত্তর) সহ বিভিন্ন সময়ে মির্জা জামাল পাশা কর্তৃক প্লট বানিজ্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির অভিযোগে একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সেখানে বসবাসরত অসংখ্য পরিবার। যাহার অভিযোগের সমূহ কপি প্রতিবেদকের নিকট সংগ্রকৃত।

Manual4 Ad Code

 

এপ্রসঙ্গে জানতে মির্জা জামাল পাশার ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ না করে কেটে দিলে তার বক্তব্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।

Manual8 Ad Code

 

এপ্রসঙ্গে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুনু মিয়া এর সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- টিলা কাটার সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এমনকি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এপ্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাছরিন আক্তার এর সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর নামে টিলা কেটে বসত ঘর নির্মাণ করার বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনেছি আর এসিল্যান্ড সাহেবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি বিষয়টি দেখবেন।

চলমান সংবাদ- ০২।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2024
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829  

সর্বশেষ খবর

………………………..