সুনামগঞ্জে মুকুট জানালেন রতনের ‘কুকীর্তি’

প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৪

সুনামগঞ্জে মুকুট জানালেন রতনের ‘কুকীর্তি’

Manual5 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সুনামগঞ্জ—১ আসনে টানা তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সাধারণ একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী থেকে কীভাবে এমপি হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেলেন তা সামনে এনেছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা ওরফে মুকুট। তিনি বলেছেন, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। কিন্তু এর আগেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই কোটি টাকার বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন (নমিনেশন) এনেছিলেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রনজিত সরকারের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন নুরুল হুদা মুকুট। জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখ্ত পলিনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

নুরুল হুদা মুকুট বলেন, প্রথম এমপি ইলেকশনের মনোনয়ন পাওয়ার ১৫ দিন আগে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন আমার বাসায় গিয়েছিলেন। আমাকে সালাম করে বলেছিলেন, ভাইসাহেব আমি তো উপজেলা ইলেকশন করবো, উপজেলা চেয়ারম্যান হবো। আপনি আমাকে ধর্মপাশা আওয়ামী লীগের একটা মেম্বারশীপ দেন। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী, মতিউর রহমান সাহেব ছিলেন প্রেসিডেন্ট। মেম্বারশীপ নেয়ার জন্য আমার কাছ থেকে একটা প্যাডে দস্তখত নিয়ে যান। এরপর তিনি মতিউর রহমান সাহেবের বাসায় যান, মতিউর রহমান সাহেব উনাকে (মোয়াজ্জেম হোসেন রতন) বাসা থেকে বের করে দেন। দুইদিন পর উনি এসে আমাকে বললেন, ভাইসাহেব আপনি তো পেছনে পড়ে গেছেন। আমি ২ কোটি টাকার বিনিময়ে নমিনেশন নিয়ে এসেছি। কানাডার সিটিজেন উনার বন্ধুকে একটা গাড়ি উপহার দিয়ে নমিনেশন নিয়ে এসেছেন।’

Manual1 Ad Code

ওই আসনে সেই সময় জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং সৈয়দ রফিকের মধ্যে কমপিটিশন চলছিল নমিনেশনের জন্য। নেত্রী বিরক্ত হয়েছিলেন, দুই জনের কমপিটিশন দেখে। তিনি সরোয়ার সাহেবকে বললেন, দেখ কাউকে পাওয়া যায় কি না। সরোয়ার সাহেব বললেন, নেত্রী আমরা ঐ এলাকার সবচেয়ে যোগ্য একজন ইঞ্জিনিয়ার কে পেয়েছি। অথচ উনি একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার।

তিনি (রতন) আমাকে বললেন, আমি তো ঐ এলাকার কোন মানুষকে চিনি না। আপনি আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান ও সম্পাদক অমল কর কে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেই। তারপর উনি বললেন, ‘ভাইসাহেব আমার কাছে কোন টাকা নাই। আপনি আমাকে টাকা দেন, একমাস পর দিয়ে দেব। আমি দুই লাখ টাকা উনাকে হাওলাত দিলাম। তাহিরপুরে অনেকে মানুষের কাছ থেকে এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ টাকা করে ধার করে নির্বাচন করেছেন রতন।

নুরুল হুদা মুকুট বলেন, রতনের এখন ধর্মপাশায় তিনটা বাড়ি। ঢাকায় বিরাট অট্টলিকা আছে। ঢাকায় ফ্লাট আছে এক স্ত্রী’র নামে, আরেকটা আরেক স্ত্রী’র নামে। কানাডাতে বড় স্ত্রীর নামে একটা বাড়ি আছে।

Manual3 Ad Code

নুরুল হুদ মুকুটা নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার পকেটের টাকা, আমার পকেটের টাকা নিয়ে উনি আপনাদের ডেভেলপমেন্ট না করে, উন্নয়ন না করে নিজের উন্নয়ন করেছেন, নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন এবং ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনে পরিণত হয়েছেন। আজ ওনার টাকার কোনো অভাব নেই।’ নুরুল হুদা মুকুট অভিযোগ করেন, আজ রতন বহু মানুষকে টাকা দিয়ে কিনছেন। জামালগঞ্জেও এই টাকা অনেকের পকেটে গেছে।’

নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা যারা মানে না, তারা আমার নেত্রীর দল করতে পারে না। জামালগঞ্জ আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের দলে রাখা যাবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন যাপন করছি। আমরা প্রগ্রতিশীল রাজনীতি, জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। আমাদের চলাফেরা দেখে বুঝতে পারবে না, কে হিন্দু কে মুসলমান। আমাদের ইসলাম ধর্মে যার যার ধর্ম পালনের কথা বলা আছে। কারো ধর্মের উপর আঘাত করবেন না। কারো ধর্মো উপর আঘাত করা যাবে না এটি শিখেছি আমরা।’
মোয়াজ্জেম হোসেনের রতনের বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার নওধার গ্রামে। তিনি ২০০৮ সালে প্রথম এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নুরুল হুদা মুকুটের বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বললেন, তিনি (মুকুট) মনগড়া কথা বলেছেন, কারো বানানো কথা উপস্থাপন করেছেন, এসব কথার কোন সত্যতা নেই, আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

সুনামগঞ্জ—১ আসনে এবার আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আছেন তিনজন। রনজিত সরকার ও মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ছাড়া স্বতন্ত্র অন্যজন হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম আহমদ। এখানে তিন প্রার্থীই সমানতালে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

January 2024
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..