সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটজুড়ে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
রাত ৮টায় বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তারা সিলেট-তামাবিল সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচলের আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক জনস্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে শ্রমিক নেতারা তা মেনে নেন।
সিলেট-তামাবিল সড়কে দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয় সিলেটের তিন উপজেলাবাসী এবং পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। গতকাল উত্তর সিলেটের তিন উপজেলার ১৭ পরগনার সভা থেকে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তিনটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এদিকে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভায় পুরো সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়। আজ বুধবার ভোর থেকে এ পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা ছিল।
১৭ পরগনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে ১৭ পরগনাবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা চাওয়ার আগ পর্যন্ত উত্তর সিলেটের তামাবিল সড়ক, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয়ত, মালিক সমিতি যেহেতু নিজেই গাড়ি বন্ধ করেছে, তাই ক্ষমা চাওয়ার পর ১৭ পরগনার অনুমতি নিয়েই বাস চালাতে হবে। তৃতীয়ত, বাস ছাড়া এসব সড়কে অন্য সব গাড়ি চলবে। এতে কেউ বাধা দিলে ১৭ পরগনার মানুষ প্রতিহত করবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১৭ পরগনার বৈঠক আবার অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সিলেট-তামাবিল সড়কে নির্বিঘ্নে বাস চলাচল করতে দেয়া ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমেদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়। বিষয়টি বিকাল ৪টার দিকে নিশ্চিত করেন জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুই দাবিতে গত দুদিন ধরে সিলেট-তামাবিল সড়কে আমাদের কর্মবিরতি চলছে। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার ভোর থেকে পুরো সিলেট জেলায় পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছে সব পরিবহন সংগঠন।
জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে সিলেট-তামাবিল সড়কে গত সোমবার ভোর থেকে চলছিল গণপরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। ওই সড়কে গত শুক্রবার বাসচাপায় ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলার ১৭ পরগনার সালিশ কমিটি কর্তৃক সড়কটিতে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমেদের গ্রেপ্তার দাবিতে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বাসের ধাক্কায় একটি ইজিবাইকের (টমটম) ৫ যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরো কয়েকজন।
ঘটনার পরদিন রাতে দরবস্ত বাজার মসজিদে সিলেটের বৃহত্তর জৈন্তাপুর ১৭ পরগনার সালিশ সমন্বয় কমিটি জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে সিলেট-তামাবিল সড়কে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের ছাঁটাইয়ের দাবি জানানো হয়। ছাঁটাইয়ের আগ পর্যন্ত ওই সড়কে বাস-মিনিবাস চলতে না দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd