সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : রাজধানীর কদমতলী থানাধীন মুরাদপুরে একই পরিবারে তিনজনকে ঘুমের ঔষধ সেবন ও পরে হাত পা বেধে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার অভিযোগে নিহত মাসুদ রানার বড় মেয়ে মেহজাবীন মুনকে গ্রেফতার করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। ওয়ারী জোনের এসি শাহ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের কথা স্বীকার করেছে আটক মেহজাবিন মুন।
সূত্র জানায়, দুলাভাই শফিকের সাথে শ্যালিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। শ্যালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্ক মা-বাবা জানতো। কিন্তু বিচার না করায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যা করেন মুন। শনিবার সকালে খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার পর মুন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নিহতরা হলেন, মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুল (২০)। এই ঘটনায় মুনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও পাঁচ বছরের মেয়ে ইফতিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ২৭৪/১, লালমিয়া সর্দার রোডের বাড়ির দোতালার ফ্ল্যাট থেকে ৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের হাত-পা বাঁধা ছিল। গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কি কারণে এবং কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, মেহেজাবিন তার একমাত্র কন্যা সন্তান মারজান তাবাসসুম ও স্বামী শফিকুল ইসলামকেও বিষাক্ত কিছু খাওয়ায়। তবে তাদের মৃত্যু হয়নি। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অসুস্থ শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাসা কদমতলীর বাগানবাড়ি এলাকায়। গত রাত ৯টার দিকে পরিবারসহ তারা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। রাতে তার স্ত্রী অনেক কিছু খেতে দেন। এরপরের ঘটনা সম্পর্কে উনি আর কিছুই জানেন না।
পুলিশের ধারণা, মারজানের মা মেহেজাবিন মুন রাতের যেকোনো সময় সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিষাক্ত কিছু খাওয়ায়। তবে কী খেয়ে তারা অসুস্থ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার বলেন, মা-বাবাসহ ছোট বোনকে হত্যা করে ৯৯৯ এ ফোন দেন মেহজাবীন মুন। চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান স্বামী শহিদুল ও সন্তানকে। ঘুমের ওষুধ খাওয়ান পর সবার হাত পা বাঁধেন মুন। মুন থাকেন আলাদা বাসায়। এখানে মায়ের বাসায় বেড়াতে আসেন তিনি। পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd