সিলেট ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সুনামগঞ্জ পৌর শহরের গুজাউড়া হাছননগরে বাসিন্দা নুরুল হকের দ্বিতীয় ছেলে এনামুল হক মুসা ওরফে তালহাকে একজন বিচারক বানাতে চেয়েছিলেন তার বাবা-মা। এখন সেটা শুধু স্বপ্ন থেকে গেল।
নেশাগ্রস্ত এক যুবক নিষ্পাপ শিশুটিকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে খুন করেছেন। তার মৃত্যুতে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই শোকে মুষড়ে পড়েছেন। অকালে বুকের ধন হারিয়ে দিশেহারা তার বাবা-মা।
শুক্রবার রাতে নিহত তালহার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তালহার মা সুমি বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। পাশে বসা নিহত শিশুটির চাচি কেঁদেই চলেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাবা-মায়ের আদরের সন্তান ছিল তালহা। এলাকার লোকজনও তাকে খুব ভালোবাসত। শিশু তালহা হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানান তারা।
নিহত তালহার বাবা নুরুল হক বলেন, কী দোষ ছিল আমার অবুঝ ছেলের? এর পেছনে নিশ্চয় কেউ জড়িত আছে। আমার ছেলেকে বিচারক বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা আর হলো না। আমার অবুঝ ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই।
শুক্রবার দুপুরে গুজাউড়া হাছননগরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল হালিম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। হালিমের বাড়ি সদর উপজেলার সুরমা ইউপিরমঈনপুর গ্রামে। পুরো ঘটনাটি পাশের একটি সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলা করছিল তালহা। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া আব্দুল হালিম নামের নেশাগ্রস্ত ওই যুবক প্রথমে তাকে লাথি দিয়ে মাটিয়ে ফেলে দেয়। এরপর একটি ভারি পাথর দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি পাঁচবার আঘাত করে। ফলে তাহলার মাথা তেতলে যায় ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে পাশের বাড়ির লোকজন গুরুতর অবস্থায় তালহাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনিত হলে সেখান থেকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd