সিলেট ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০
বিনোদন ডেস্ক :: করোনা ভাইরাসের কারণে এতোদিন ধরে বন্ধ থাকা সিনেমা হলগুলো চালুর দিনে ইন্ডাস্ট্রিকে গতিশীল করার জন্যই প্রথম থেকেই নতুন ছবি মুক্তি ও ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। উদ্যোগ না থাকায় নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে না, আর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে হল মালিকরাও সিনেমা হল খুলতে চাইছেন না। এর ফলে দেশীয় সিনেমা চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন হল মালিক ও প্রযোজক সমিতির নেতারা। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে নিষ্প্রাণ প্রেক্ষাগৃহগুলো। বিশ্বজুড়ে বড় ছোট বাজেটের ছবি মুক্তি পাচ্ছে ওটিটি প্লাটফর্মে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রেক্ষাগৃহে এর মধ্যে নতুন ছবি মুক্তি দেওয়ার খবর নেই। কিন্তু ঠিক কঠিন সময়ে চলচ্চিত্রে চমক দেখালেন সাহসী হিরো আলম।
আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম তার সিনেমা ‘সাহসী হিরো আলম’র মুক্তি দিলেন। তিনি লাভ লোকসান নিয়ে কোন চিন্তা না করেই সিনেমার মুক্তি দিলেন। চলচ্চিত্রের কঠিন মূহূর্তে দর্শকদের জন্য ১৬ অক্টোবরই হলগুলো খোলার সাথে সাথে তিনি সাহসী হিরো আলমের মুক্তি দিলেন।
প্রযোজক পরিবেশক সমিতির হিসাব মতে, মুক্তির অপেক্ষায় আছে ২৪টি সিনেমা। কিন্তু, ১৬ অক্টোবর হল খুললেও করোনা মহামারির কারণে নতুন ছবি মুক্তি দিতে চাইছেন না পরিচালক, প্রযোজকরা। বলা যায় পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই বিশাল লগ্নির ছবি মুক্তি দেওয়ার মতো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সিনেমা হল খোলার ১-২ মাস পর এসব সিনেমা মুক্তি দিতে ইচ্ছুক প্রযোজক,পরিচালকরা।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে খোলার মতো সিনেমা হল রয়েছে ১১৫ টি। এর মধ্যে ৩০-৩৫ থেকে টি হলের করোনার সাধারণ ছুটির সময় বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় সংযোগ কর্তন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল না পরিশোধ না করা পর্যন্ত এইসব হল খুলতে পারছে না। ফলে বলতে গেলে সিনেমা হল খুলছে ৭৫ থেকে ৮০ টি।
নতুন ছবি মুক্তি না পাওয়ার বিষয়ে খসরু বলেন, সিনেমা হল খোলার শুরুর চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে গতিশীল করার উপায় ছিল। প্রয়োজন ছিল একটি প্রযোজক সমিতি, হল মালিক সমিতি ও সরকারকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় মিটিং। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অর্ধেক আসনে সিনেমা হলগুলো চলবে। এতে করে যদি কোনো নতুন সিনেমা মুক্তি দেওয়া হয় তাহলে তার রেন্টাল উঠবে না। হল মালিক ওঠাতে পারবে না খরচ প্রযোজক ওঠাতে পারবে না তার লগ্নি। যার ফলে নতুন ছবি মুক্তি দিতে রাজি নয় প্রযোজকেরা।
এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বাৎলে দিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় মিটিঙের মাধ্যমে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে গতিশীল করা সম্ভব। যেহেতু অর্ধেক আসনে সিনেমা হলগুলো চলবে সেহেতু বাকি অর্ধেক আসনের ভর্তুকি বা প্রণোদনা সরকারকে দিতে হবে। এতে করে নতুন নতুন ছবিগুলো প্রযোজকেরা মুক্তি দিতে এগিয়ে আসবে।’
হিরো আলম বলেন, আমি লাভের চিন্তা না করেই সিনেমার মুক্তি দিয়েছি। দর্শকদের বিনোদন উপহার দেওয়া হচ্ছে আমাদের কাজ। আমদের হিরো তৈরী করেন দর্শক। তারা চাইলে জিরোও করতে পারেন। তাই আমি টাকার চিন্তা না করেই সিনেমার মুক্তি দিয়ে দিছি। দর্শকরা আনন্দের সাথে সাহসী হিরো আলম দেখছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ আমার ভালো সহ্য করতে পারে না। আমি সাহস করে সিনেমা বানালাম, আমাকে উত্সাহ না দিয়ে উসকানি দেয়। আমার পেছনে লাগে। কিন্তু আমি পাত্তা দিই না। কারণ, সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসেন।’
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd