তাহিরপুরে অবৈধ হাটে ভারতীয় গরু, করোনা আতংক

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

তাহিরপুরে অবৈধ হাটে ভারতীয় গরু, করোনা আতংক

Manual5 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অবৈধ ভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোরবানির পশুর হাট বসিছে সরকার বিরোধী ও সুবিধাভোগী একটি মহল। আর ভারতীয় সীমান্তের গরু চোরাচালান ও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রশাসনের নাকের ডগায় মাইকিং করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুটি গরুর হাট বসানো হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। মানা হচ্ছে না করোনা প্রতিরোধ করনীয় নির্দদেশনা। ফলে সচেতন মহলে ও উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Manual2 Ad Code

এই অবৈধ গরুর হাটটি উপজেলা উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর ও জনতা বাজার আর এর কাছেই ভারত সীমান্ত এলাকা।
আর গরুর হাট বসিয়ে মসজিদের নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা কিন্তু সরকার কোন রাজস্ব পাচ্ছে না।

Manual6 Ad Code

এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং ঐ অবৈধ হাটের আয়োজন কারীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবী জানান উপজেলার ইজারাদার ও সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর ও জনতা বাজারে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে গরু চোরাচালানীদের মাধ্যমে চোরাইপথে গরু এনে চাঁদাবাজি ও বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সংঘবদ্ধ চক্র শুক্রবার(২৪,০৭,২০২০)নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গরুর হাট বসিয়েছে। আর ঈদ পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ধারাবাহিক বাজার বসাবে। আর সীমান্তের চিহ্নিত চোরাচালানীরা বারেকটিলা,রাজাই,চাঁনপুর কড়ইগড়া ও আশ পাশের সীমান্ত এলাকায় দিয়ে ঈদকে সামনে রেখে বিজিবি কঠোর নজরদারী রাখলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যদি শান্তিপুর বাজারে কোরবানির গরুর হাট বসানো হয় তাহলে ভারত থেকে চোরাইপথে অবৈধ ভাবে আসা দুবর্ল ও রোগাক্রান্ত গরুতে সয়লাব হয়েছে আর ইতি মধ্যে উপজেলা ছড়িয়ে পরেছে। আর সারা বছরের জন্য এসব গরু বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে রোগাক্রান্ত গরু খেয়ে মানুষজন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকার,ব্যবসায়ী এবং ইজারাদাগণও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেবার দাবি সর্বস্তরের জনসাধারণের।

এছাড়া উপজেলার বাদাঘাট বাজার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রানকেন্দ্র এবং কয়েক যুগেরও বেশি সময় ধরে গরুর হাট হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। যার ফলে বৈধ ইজারাও রয়েছে। এ বাজারটি ইজারাদারগণ প্রচুর পরিমাণে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা আনেন। এখন এই বাজার রেখে আরো বাজার হলে ইজারাদারগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ফলে আগামীতে আর কেউই সরকারকে অধিক রাজস্ব দিয়ে বাদাঘাট বাজারটির ইজারা নিবে না।

এটি সরকারের বড় একটি রাজস্ব খাত,তা বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল। আর ঐ দুটি হাটের সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

বাদাঘাট বাজারের ইজারাদার জাহাঙ্গীর ক্ষোভের সাথে বলেন, বাদাঘাট বাজারটি আমরা সরকারিভাবে সকল নিয়ম মেনে ইজারা এনেছি। এখন যদি এই বাজারের এক কিলোমিটার দূরে আরো বাজার বসায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আর হব। আমাদের ক্ষতি করার জন্য চোরাচালানীদের সুবিধা দিয়ে নিজেদের চাঁদাবাজি আর স্বার্থ হাসিল কারীদের ধমনে শান্তিপুর ও জনতা বাজারে গরুর হাট দুটি বন্ধের দাবি জানাই।

Manual4 Ad Code

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহ জানান,ঈদ উপলক্ষ্যে আমি কোন গরুর হাট বসাতে অনুমতি দেই নি। অবৈধ ভাবে গরুর হাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Manual4 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..