সিলেট ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: বন্যায় গো-খাদ্যের সংকটে পড়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বানভাসি মানুষ ও খামারিরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উঁচু বাঁধ ও রাস্তার ধারে বন্যা আক্রান্ত স্থান থেকে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরাতে পারলেও পশুখাদ্য সরাতে পারেননি।
গবাদিপশুর একমাত্র খাদ্য খড় বন্যার পানিতে পচন ধরেছে, আবার কোথায়ও ভেসে গেছে। এ কারণে গবাদিপশুর খাদ্য নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। তাছাড়া সরকারিভাবে কোনো ধরনের গো-খাদ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন গবাদি পশুর মালিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানিবন্দি প্রতিটি পশুর জন্য দিনে এক কেজি দানাদার খাদ্য ও তিন কেজি খড়ের প্রয়োজন। এ জন্য ধানের খড়গুলো প্রতিটি কৃষক বাড়ির সামনে উঁচু করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে রাখেন। কিন্তু বন্যার পানিতে গবাদিপশুর জন্য রাখা খড় নিমজ্জিত হয়ে পঁচন ধরায় গবাদিপশুর খাবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন তারা।
বন্যা কবলিত বানভাসি মানুষজন তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিভিন্ন বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। গবাদি পশুদের পলিথিন কিংবা কাপড়ের তৈরি ছাউনিতে রাখছেন। গবাদিপশু চুরি কিংবা হারানোর ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
কৃষক বাচ্ছু মিয়া বলেন, নিজেরা কোনোরকম দুই বেলা খাবার পাইলেও গরুগুলার জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছি না। চতুর্দিকে পানি, কোনো ঘাস নাই। গরুগুলার জন্য রাখা খড় পানিতে ডুবে গেছে। গরু নিয়া আমরা এখন খুব কষ্টে আছি।গবাদিপশুর মালিক কৃষক আমির উদ্দিন ও ভুটি মিয়া বলেন,গো খাদ্য আর খড়ের খোজে আমরা নৌকা নিয়া তিনদিন যাবত ঘুরছি।
গবাদি পশুর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারদফা বন্যার পনের দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে গো-খাদ্য সহায়তা পাননি। উচ্চ মূল্যে খড় কিনে এক বেলা, কোনোদিন দু’বেলা খাবার দিচ্ছেন। ফলে খাদ্য কষ্টে ভুগে স্বাস্থ্যহানি ঘটছে এসব গবাদি পশুর। চারদিকে পানিতে নিমজ্জিত থাকায় প্রাকৃতিক কোনো খাবার জোগাড় করাও সম্ভব হচ্ছে না।
গো-খাদ্য সংকটের কথা স্বীকার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মনির উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছেও কৃষকগন আসছে।ইতিমধ্যে আমরা মেডিকেল টিম করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছি। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।আসার সম্ভাবনা আছে, আসলে পরে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিতরন করা হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd