সিলেট ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: করোনা মহামারীতে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সহ যাবতীয় কর্মস্থলে হ্রাস পেয়ছে কর্মসংস্থানের ব্যবস্হা। তাই গণহারে বেড়েছে বেকারত্বের হার, যার অধিকাংশ অংশ হচ্ছেন উদিয়মান তরুন। তরুণরা একটা দেশের কাঁচামাল স্বরূপ। কাঁচামাল দিয়ে মিল-কারখানায় যে রকম নতুন জিনিস তৈরী করা হয় সে রকম তরুণদের দিয়ে গঠিত হয় একটা দেশের মূল কাঠামো আর ভিত্তি। যুগে যুগে কালে কালে তাই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সকলেই জানি যে, ৪৭ এর দেশ বিভাগ, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা সকলের নজর কেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে তরুণদের অবস্থা বড়ই শোচনীয়। করোনাভাইরাসে বেকারত্ব বাড়ায় আরো কিছু তরুণের অক্ষয়ের পথ সুগম হয়েছে। তারা আজ অবক্ষয়ের শিকারও বটে। বর্তমানে তরুণরা শক্তিহীন, কর্মহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন জীবন-যাপন করছে। বিকাল হলে প্রধান সড়কে, সন্ধ্যার পর প্রতিটি গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে দেখা যায় তাদের আড্ডা দিতে। যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়িয়ে, আড্ডা দিয়ে, নেশা করে, সময় অতিবাহিত করছে।দীর্ঘ মেয়াদে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় খারাপ সহচরের সান্নিধ্যে এসে নষ্ট হচ্ছে কচিমনা স্কুলছাত্ররা। আসক্ত হচ্ছে ধূমপানের ও অশালীন ভাষার। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দীর্ঘ সময় ছুটি পাওয়ায় বাসায় বসে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা স্মার্টফোন ব্যবহারে ধাবিত হচ্ছে খারাপের দিকে। লেখাপড়ায় দেখা দিয়েছে অনীহা। অনেক অভিভাবকই এ বিষয়ে উদাসীন।
তরুণরা আমাদের শক্তি। আগামীদিনের দেশ পরিচালনার কান্ডারি। তাদের হাতেই রচিত হবার কথা সুন্দর বাংলাদেশ, আলোকিত আগামী। অথচ আজকের তারুণ্য বেকারত্বের কবলে পড়ে বিপদগামী। ভুল পথের যাত্রী। কথাটা শুনে কিছুটা বিচলিত হয়তো হবেন। কিন্তু, এটাই ধ্রুব সত্য। তারুণ্য আজ ঝুঁকেছে মাদকের নেশায়, ডুবেছে মাদকের করাল গ্রাসে।
নির্জন স্হানে নির্মানাধীন ভবনের নিচে জড়ো হয়ে বিপদগামী একদল তরুণ প্রতিদিনই পালা করে গ্রহণ করছে বিষাক্ত এই দ্রব্য। আগ্রাসী মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের নেতৃত্ব, আমাদের আগামী সম্ভাবনাময়ী তরুণ। কখনো কখনো মাদক ভাগাভাগি নিয়ে ওদের মাঝে লেগে যায় প্রচুর বিবাদ। এই বিবাদ আবার অনেক সময় সংঘাতে রূপ নেয়। তরুণদের কাছে মাদক সেবন যেন দিন দিন ফ্যাশনে রূপান্তরিত হচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে না ক্রমেই মাদক তাদের কতটা ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাদক সেবনের ফলে তাদের মানবিক সত্ত্বাও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের সুন্দর ভবিষ্যত।
মাদকের প্রতি তারুণ্যের এই ভয়ংকর আগ্রহের জন্য অসচেতনতাই প্রধান কারণ বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। অনেক সময় দুষ্টোমীর ছলে কেউ কেউ মাদক গ্রহণ করলেও পরে তা নেশায় পরিণত হয়ে দাঁড়ায়। একটু অসচেতনতাই এ নেশার মূল কারণ। তাছাড়া অভিভাবকরাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী। বয়সন্ধিকালে সন্তানের সঠিক নজরদারী করতে না পারার ফলেও অনেক সন্তান পরবর্তীতে মাদকে ভয়াল গ্রাসে ঢুকে পড়ে।
সরকারের একার পক্ষে মাদক মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এজন্য সচেতন সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক সেবন থেকে তরুণ সমাজকে মুক্ত রাখতে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত। পাশাপাশি অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদেরও যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী।
বর্তমানে আমাদের সমাজে বা দেশে তরুণদের খারাপ হওয়ার হাজারো উপকরণ বিদ্ধমান। তাদেরকে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার চাহিদা মোতাবেক ছোটখাটো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার নেই কোন সামাজিক সংগঠন। সরকারের সাথে সাথে সামাজিক সংগঠন সমাজের সচেতন ব্যক্তিগণ ও জনপ্রতিনিধিগণ কে তরুণদের অবক্ষয় রোধে অগ্রভূমিকা নিতে হবে। তরুণদের চাহিদা মোতাবেক ছোটখাটো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, তরুনদের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। তাদেরকে কাজে বিশ্বাসী ও মনোযোগী করে তুলতে হবে। সমাজের দায়িত্বশীলদের তরুনদের অবক্ষয়ে কোনভাবেই এই দায়ভার অস্বিকার করা সম্ভব না। জয় হোক তারুণ্যের জয় হোক মানবতার।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd