করোনাকালে টিউশন ফি’র জন্য সিলেটে ১৪৮ শিক্ষার্থীর রেজাল্ট স্থগিত!

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

করোনাকালে টিউশন ফি’র জন্য সিলেটে ১৪৮ শিক্ষার্থীর রেজাল্ট স্থগিত!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: করোনা মহামারীকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে যখন মানবিকতার আহ্বান চলছে, ঠিক তখনি একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত নিল বৃটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ কতৃপক্ষ। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসের টিউশন ফি বকেয়া দেখিয়ে ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর রেজাল্ট স্থগিত করে স্কুলটি।

রবিবার প্রকাশিত রেজাল্টে দেখা যায়, ইংলিশ মিডিয়ামের ২৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১৩ জনের রেজাল্ট দিয়ে ১৪৮ জনের রেজাল্ট স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষা না নিয়ে তথাকথিত এসেসমেন্টের মাধ্যমে রেজাল্ট প্রস্তুত করা হয়। অথচ গত ২৬ জুন স্কুলের সাধারণ অভিভাবক প্রতিনিধি এড. আব্দুল মুকিত অপি ও মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি স্নিগ্ধা জাহাঙ্গীর লিখিতভাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কয়ছর জাহানের কাছে করোনাকালীন চার মাসের টিউশন ফি অর্ধেক হারে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এছাড়া ফি পরিশোধ করার নির্ধারিত সময় কিছুটা বৃদ্ধির অনুরোধও জানান তারা।

উল্লেখ, গত মার্চ মাস থেকে স্কুল বন্ধ ছিল এবং কোন ধরণের অনলাইন ক্লাসও হয় নি। কিন্তু এনিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

এমতাবস্থায় রেজাল্ট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানার পর সিলেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অভিভাবক এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, স্কুলের নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য আব্দুল মুকিত অপি, সিনিয়র অভিভাবক ওলায়েত হোসেন লিটন, জোনাকি বেগম, জাবেদুর রহমান, মো. মাছুম, মো. বেলাল, আহবাব মিয়াসহ অভিভাবকরা কয়ছর জাহানের সঙ্গে দেখা করে ফি পরিশোধ না করা শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মহামারী কালীন সময়ের টিউশন ফি প্রদানের সময় বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। এর আগে আপনি জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিউশন ফি যাদের পরিশোধ আছে তাদের রেজাল্ট দেওয়া হবে, কিন্তু আপনাদের কথা এবং কাজের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

অভিভাবকরা এসময় আরও বলেন, রি-এডমিশনের নামে বছরের শুরুতে অভিভাবকরা এককালীন টাকা দিয়েছিলেন, সে টাকা বাচ্চাদের কোন ইভেন্টে খরচ হয় নি। এছাড়া বার্ষিক পরীক্ষার ফি পরিশোধ করা হলেও কোন পরীক্ষা হয় নি।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কয়ছর জাহান অভিভাবকদের কোন কথার সদুত্তর না দিয়ে নিজের অবস্থানে অনঢ় থাকেন বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জনৈক ব্যক্তি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তিনি নিজ নাম ও নিজ পদ (স্কুল কমিটির নির্ধারিত) জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রেজাল্ট স্থগিতের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এক পর্যায়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..