সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০
সুলতান সুমন :: শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতাল। সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীদের একমাত্র ভরসাস্থল। ওই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১৬ টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু ব্যবহার হচ্ছে ১৪ টি। এর মধ্যেও রয়েছে ভিআইপি কৌটা এবং সিন্ডিকেট বাণিজ্য। তাছাড়া হাসপাতালের ১২ টি ভেন্টিলেটর রাখা হয়েছে। অথচ ওই ১২ টি মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে না। ইতিমধ্যে ৩টি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন মেশিন গুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা মেরামত করা হবে।
আর শামসুদ্দিন হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলেছে, বর্তমানে ৬টি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। ঠিক তেমনি আইসিইউতেও রয়েছে দূর্নীতি। সেখানে আইসিইউ ইনচার্জ নার্সরা তাদের নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা পয়সার বিনিময়ে সীট বাণিজ্য ও ঔষধ বাণিজ্য করে থাকেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সাথে। ফলে অনেক সময় শামসুদ্দিন হাসপাতালের জরুরী যোগাযোগের হটলাইন নাম্বারে ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি সঠিক তথ্য।
রোববার (২২জুন) একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর আত্মীয় শামসুদ্দিন হাসপাতালের জরুরী যোগাযোগের হটলাইন নাম্বারে ফোন দিয়ে করেন হ অপর প্রান্তে ফোন ধরেন জরুরী হটলাইন ইনচার্জ সাইদুর রহমান । তখন তার কাছে আইসিইউ এর ব্যাপারে জানতে চাইলে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রায় আধ ঘণ্টা পর বলেন আইসিইউ ওয়ার্ড থেকে কোন তথ্য পাচ্ছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আপনাকে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আইসিইউতে দায়িত্বরতরা উল্টো আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেছেন প্রয়োজন হলে রোগীর স্বজনরা আইসিইউতে যোগাযোগ করুক। পরে রোগীর স্বজনরা আইসিইউতে দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ’র সাথে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউ’র নার্সিং ইনচার্জ শিউলী সুলতানা বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এসব কিছুই জানেন না। পরে তিনি বর্তমান দায়িত্বে থাকা লাকির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। শিউলী আরো জানান, আই.সি.ইউ ১৬ টি বেড আছে। এর মধ্যে দুইটি ডায়লাইসিস রোগীর জন্য। আর অন্য সবগুলো সবসময়ই রোগী থাকেন। তিনি আরো বলেন হাসপাতালের আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটর মেশিনসহ সব ঠিক আছে কোন সমস্যা নেই।
দায়িত্বে থাকা লাকি জানান, তিনি ( ২৩ জুন) পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে ছুটিতে আছেন। ২৩ জুন পর্যন্ত ১২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এদের মধ্যে ৬ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও ৬ জন নন-কোভিড ওটির রোগী। তাছাড়া করোনা ওয়ার্ডে ওই দিন ৭২ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ ও নন-কোভিড ১২রোগী চিকিৎসাধীন। তিনি আরো জানান, তিনি সবসময়ই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চেষ্টা করেন রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা করার।
এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, হাসপাতালের ১২ টি ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্য ৩টি নষ্ট আছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ হয়েছে। তারা খুব শীঘ্রই তা মেরামত করে দিবেন। তিনি আরো জানান, আইসিইউতে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে। সেগুলো তিনি সমাধানের চেষ্টা করবেন।সূত্র: সিলেট সান
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd