সিলেটের ক্ষুধার্ত হিজড়াদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ত্রাণ

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

সিলেটের ক্ষুধার্ত হিজড়াদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ত্রাণ

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সা খেয়ে দিন পর করছেন সিলেটের ৪৫০ জন হিজড়া। এমনকি এখনো তাদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারি কোনো ধরণের ত্রাণসামগ্রী।

মানুষের জন্য মানুষ আর মানুষের জন্যেই মানবতা। মানুষ মাত্রই শিক্ষিত-অশিক্ষত, উন্মাদ, প্রতিবন্ধী কিংবা হিজড়া যাই হোক না কেন, মানবতা সবার জন্যে। কিন্তু পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রীয় কোনো মাধ্যমেই মানবতা নামক শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নন হিজড়া জনগোষ্ঠী। মমতাময়ী মা পর্যন্ত সমাজ সংস্কারের ভয়ে তার হিজড়া সন্তানটিকে নিজের মমতা থেকে এক সময় দূরে ঠেলে দেন।

পরে প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে জন্ম নেয়া হিজড়া সন্তানটি ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সমাজ ও পরিবার-পরিজন থেকে। বঞ্চিত হয় রাষ্ট্রীয় সব মৌলিক অধিকার থেকে। ফলে হিজড়াদের সারাজীবনের আর্তনাদ- ‘আমরাও মানুষ’ ‘আমরাও বাঁচতে চাই’ কিন্তু তাদের এই আর্তনাদ পৌঁছায় না সমাজের কারোর কানে।

সিলেট হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সভানেত্রী সুন্দরী ক্ষুধার্ত কণ্ঠে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমরা খুব অসুবিধায় আছি। সিলেটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে সরকারি বে-সরকারিভাবে খদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হলেও আমরা আজ পর্যন্ত সরকারি বে-সরকারি কোনোকিছুই পাইনি। তবে শুনেছি সরকার আমাদের জন্য খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে না। আমরা এখন খুব কষ্টে আছি। কেননা, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা এখন ঘর থেকে বেড় হতে পারছিনা। সিলেটে বর্তমানে ৪৫০ জন ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটপট করছেন।

সিলেট হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সুবিধা বঞ্চিত হিজড়দের কথাগুলো শুনে এমনটাই বোঝা যাচ্ছে যে, খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা এই হিজড়াদের খোঁজ খবর নেয়ার যেন কেউ নেই। এমনকি এখনো তাদের ভাগ্যে জুটেনি সরকারি বা বে-সরকারি কোনো ধরণের ত্রাণসামগ্রী।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খেয়াল করা একান্ত জরুরি বরে মনে করছে সিলেটের সচেতন মহল।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..