সিলেট ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশ যখন ঘরবন্দি তখনই স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চললে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন। একদিকে অবৈধ লিষ্টার মেশিন দিয়ে দিনরাতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে একসাথে কোয়ারি এলাকায় কয়েকশ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাজ করায় বাড়েছে করোনা ঝুঁকি। অথর সরকার ২৬ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জনসমাগম না করতে বারবার নির্দেশনা দিয়েছে। আর চলতি বছরের শুরুর দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে কোয়ারি এলাকার সকল শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে কোয়ারি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
তবে এতোসব কিছুর পরেও থেমে নেই পাথর উত্তোলন। মূলত স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে একটি চক্র পাথর উত্তোলন করে আসছে। এছাড়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানুর একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে।
অডিওতে তিনি বলছেন, আজ ভোলাগঞ্জে অভিযান হবে না। আজ শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। তোমরা (ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি) সারা রাত সব মেশিন লাগিয়ে পাথর উত্তোলন কর। তোমাদের কোন অসুবিধা নাই।
আর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য্য বলেন, অডিও ক্লিপটি সম্ভবত আগের। কারণ সম্প্রতি আমরা কোন অভিযান পরিচালনা করিনি। বর্তমানে আমরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর এ সুযোগে যদি কেউ পাথর উত্তোলন করে তাহলে আমার জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।
তবে কোন অডিও ক্লিপের কথা জানা নেই বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু। তিনি বলেন, বর্তমানে পাথর কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। এখানে কোথাও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর এলাকায় নদীতে পাড় কেটে কয়েকশত মানুষ মটি খুড়ে পাথর উত্তোলন করছেন। এর পাশেই নদীতে আন্তত ৬০/৭০টি লিষ্টার মেশিন ও প্রায় ১০০ শেইভ নৌকা দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মূখে পড়েছে ভোলাগঞ্জ স্থল বন্দরসহ স্থানীয় গুরুত্বর্পল স্থাপনা।
শ্রমিক ও স্থানীয় একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে স্থানীয় আতাবুরের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে দিনে রাতে এখানে পাথার উত্তোলন করা হচ্ছে। লেবারের মাথা পিছু ৫০০ টাকা ও প্রতিটি লিষ্টার মেশিন থেকে ১০ হাজার টাকা এবং শেইভ নৌকা থেকে ৫ হাজার টাকা করে পুলিশের নামে আদায় করছে আতাবুরের লোকজন। আতাবুরের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই কেউ ভয়ে সম্ভবনাময় গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা রক্ষায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এছাড়াও ধলাই সেতুর নিচে কয়েকশত শ্রমিক ব্রিজের নিচে ছোট ছোট গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে। স্থানীয় প্রশাসনের মানা থাকলেও সেখানে প্রতিদিন ৭০০/৮০০ শ্রমিক পাথর উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে উত্তোলিত পাথর বুঝাই নৌকা ও গাড়ি থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে ।
সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অডিও ক্লিপটি কোথায় থেকে এলো তাও আমার জানা নেই। তবে আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd