গর্ভেইশিশু বিক্রির অভিযোগ, ‘নিতে এসে’ নারী আটক

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৯

গর্ভেইশিশু বিক্রির অভিযোগ, ‘নিতে এসে’ নারী আটক

Manual3 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায়ই মুসা নামের (২ দিন) এক শিশু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সেই নবজাতককে নিতে এসে সোনিয়া (২৮) নামের এক নারী আটক হয়েছেন।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ১০৬ ওয়ার্ড (গাইনি) থেকে সোনিয়াকে আটক করা হয়। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি জোসনা নামে এক নারীর সদ্যোজাত সন্তান নিতে এসেছিলেন তিনি।

Manual6 Ad Code

জোসনার স্বামীর নাম টুকু মিয়া। তারা গাজীপুরের টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ফুটপাতে থাকেন।

জোসনা বাংলানিউজকে বলেন, এক সময় আমি কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় দোকানে দোকানে পানি দেওয়ার কাজ করতাম। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাবস্থায় সেখানে সোনিয়া নামের এক নারীর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমার গরিব মানুষ, সোনিয়া ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার পেটের সন্তানকে কেনার জন্য প্রস্তাব দেয়। গরিব বিধায় টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করতে রাজি হই। অগ্রিম হিসাবে সোনিয়া আমাকে তিন হাজার টাকাও দেয়। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) সিজারের (অপারেশন) মাধ্যমে আমার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। নাম রেখেছি মুসা।

Manual5 Ad Code

‘বুধবার রাতেই সোনিয়া ঢামেক হাসপাতালে আমার সন্তানকে নিতে আসে। এসময় তাকে সন্তান না দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম তিন হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলি। কিন্তু সোনিয়া তারপরও জোর করে আমার সন্তান নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাসপাতালের লোকজন তাকে আটক করে।’

Manual2 Ad Code

সোনিয়া তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে আমি পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের নাসির উদ্দিন সরদার লেনের একটি বাসায় থাকেন।

তিনি জোসনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক সময় জোসনা আমার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। গরিব মানুষ বিধায় তাকে আমি নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছি। তার সন্তান জন্মের কথা শুনে তাকে হাসপাতালে দেখতে এসেছি মাত্র। এর বেশি কিছুই জানি না।

হাসপাতালের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স কামরুন নাহার ও টুম্পা হাওলাদার বলেন, হঠাৎ সোনিয়া নামের ওই নারী নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে গেটের দিকে যেতে থাকলে আমার তাকে আটক করি। কারণ অনেক নিয়ম-কানুন মেনে নবজাতক নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে হয়। এসব কিছু না করেই সোনিয়া নবজাতককে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ত্যাগের চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের ওয়ার্ড মাস্টার মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, সোনিয়াকে আটক করার পরপরই শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভোজন বিশ্বাস বলেন, সোনিয়াকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হয়নি। তবে হাসপাতালে নবজাতকের মা জোসনা বলেছেন, তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার নিয়ে একটা লেনদেনের ব্যাপার ছিল। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..