তাহিরপুরে ব্রীজ নির্মানে ৩২লাখ টাকাই রসাতলে,চরম দূর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক জনসাধারন

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

তাহিরপুরে ব্রীজ নির্মানে ৩২লাখ টাকাই রসাতলে,চরম দূর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক জনসাধারন

Manual8 Ad Code

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট-চানপুর সড়কে শান্তিপুর নদীতে তিন বছর পূর্বে একটি ব্রীজ নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের পর থেকে একদিনের জন্যও ব্যবহার করতে পারে নি এলাকাবাসী। হেমন্তে নদীটি শুকিয়ে গেলেও বর্ষায় নদীটি ডুবে থাকার কারণে এ পথে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেকে পরেন নানা মূখী সমস্যায় ৩টি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী। ফলে সরকারের উন্নয়নের মহা সড়কে না উঠে ৩২লাখ টাকাই রসাতলে গিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। আর ৩২লাখ টাকায় এই ব্রিজ হবে না বলে দাবী করে এলাকাবাসী ক্ষোবের সাথে তারা জানান,সংশ্লিষ্ট কৃতৃপক্ষের যোজ সাজোসে সরকারের এই টাকা লুটপাট করার জন্যই এমন দূরবস্থায় রেখেছে। এই অবস্থায় ব্রিজটি একদিনের জন্য ব্যবহার করতে পারেনি সর্ব সাধারণ। ব্রীজের এপ্রোচে মাটি না থাকায় সেই সাথে ব্রিজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সরজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বাদাঘাট-চানপুর সড়কে শান্তিপুর নদীতে ব্রিজের দক্ষিন পাশে ব্রিজে উঠার জন্য এপ্রোচে মাটি ভরাট রয়েছে তাও সমান্য। ব্রিজের উত্তর পাশে কোন মাটি নেই। তাছাড়া ব্রিজটির উত্তর পাশে এবং দক্ষিন পাশে কোন সংযোগ সড়ক নেই। সংযোগ সড়ক নির্মানের জন্য ২০১৭সালে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্প থেকে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ৩লক্ষ ২০হাজার টাকা বরাদ্ধ দেন। শান্তিপুর বাজারের উত্তর পাশ হতে ব্রিজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্পে ইউপি সদস্য আবু তাহের মিয়াকে প্রকল্প প্রধান করা হয়। প্রকল্প চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রকল্পে শান্তিপুর বাজার হতে কাজ শুরু করে ব্রিজের উত্তর পাশে দু’শতাধিক ফিট দুর পর্যন্ত মাটির কাজ করান। অবশিষ্ট সংযোগ সড়কটি এভাবেই অসম্পূর্ন রয়েছে ব্রিজটি। নির্মানের তিন বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজটি ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

Manual4 Ad Code

তাহিরপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এলজিইডি) আরো জানাযায়,২০১৬-১৭অর্থবছরে এলজিইডি(সুনামগঞ্জ) হিলিপ প্রকল্প ৩২লক্ষাধিক টাকা নির্মান ব্যায়ে ব্রিজের দরপত্র আহবান করে। আহবানের পর নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী পায় সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার পারভেজ এন্টার প্রাইজ। ব্রীজ নির্মাম হলেও ব্রিজ নির্মাণের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সামান্য মাটির কাজ করে ব্রিজের দুপাশের এপ্রোচের। তাছাড়া অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পে ইউপি সদস্য আবু তাহের মিয়াও শতভাগ মাটির কাজ না করায় সংযোগ সড়কটি স্থাপিত হয় নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

চানপুর গ্রামের বাসিন্দা রনি,স¤্রাট,আব্দুর রাশিদ বলেন,সংযোগ সড়কটি স্থাপন করে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করা হলে আমাদের অনেকপথ ঘুরে তাহিরপুর সদরে যাতায়াত করতে হতো না। আমরা সহজেই চানপুর বাদাঘাট সড়ক বব্যহার করে তাহিরপুর সদরে যাতায়াত করতে পারি। জনদূর্ভোগ কমে আসতে বর্ষার সময়।

Manual1 Ad Code

নির্মাণ কাজের ঠিকাদার পারভেজ আলম বলেন,নির্মাণের পর আমরা দুপাশের এপ্রোচে মাটি ভরাটের কাজ করে দিয়েছি। ইউপি সদস্য ও সংযোগ সড়ক প্রকল্পের সভাপতি আবু তাহের মিয়া বলেন,শতভাগ মাটির কাজ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

তাহিরপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী(এলজিইডি)রেজাউল করিম বলেন,ব্রিজটি সর্ব সাধারণের চলাচলের উপযোগী করতে হলে প্রটেকসন ওয়াল দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন,অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মস্থান কর্মসূচী প্রকল্প থেকে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজটি করা হয়েছিল ব্রিজ পর্যন্ত। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে গেছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..