সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮
স্টাফ রিপোর্টার :: গত জুলাইয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন তাঁরা। প্রায় সাড়ে চার মাস পর আবার মুখোমুখি আরিফুল হক চৌধুরী ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তবে এবার তাঁরা প্রার্থী নন। নিজ দলের প্রার্থী পক্ষে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই দুই সদস্য। সিলেট-১ আসন ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন আসনের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা।এবার সিলেট-১ আসনের প্রার্থী নিয়ে শুরুতে ক্ষুব্দ ছিলেন দু’জনই। মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে দলেল ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীকে বিএনপির প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে তাঁর দাবি উপেক্ষা করে দলীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রার্থী করে বিএনপি। এতে ক্ষুব্দ আরিফুল হক প্রথমে প্রচার প্রচারণা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। অবশ্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েই নগর ভবনে গিয়ে আরিফের সাথে দেখা করেন মুক্তাদির। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর মেয়রের বাসায় গিয়েও দেখা করেন বিএনপি প্রার্থী। এতে মন গলে আরিফের। অভিমান ভুলে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তাদিরের পক্ষে মাঠে নামেন তিনি। অবশ্য এরআগে ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে মুক্তাদিরের পক্ষে গণসংযোগ চালালে তাতে অংশ নেন আরিফুল হক।এবার সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নিজেই মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তবে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের অনুজ জাতীসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেনকে। মোমেন মনোনয়ন পাওয়ায় কামরান তাঁর পক্ষে মাঠে নামবেন কী না এ প্রশ্ন দেখা দেয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। অর্থমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতি কামরানের ক্ষোভের বিষয়টি সিলেটের রাজনীতিতে আলোচিত ইস্যু। গত সিটি নির্বাচনে অর্থমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার থেকে কামরান আশানুরুপ সহযোগিতা পাননি বলে মনে করেন সাবেক এই মেয়রের অনুসারীরা। ফলে এবারের নির্বাচনে মোমেনের পক্ষে কামরান কতোটা মাঠে নামবেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠে।তবে সব প্রশ্ন উড়িয়ে প্রথম দিন থেকেই ড. আব্দুল মোমেনের পক্ষে প্রচারণায় রয়েছেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সিটি নির্বাচনের প্রায় সাড়ে চার মাস পর আবার নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চেয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি।কেবল সিলেট-১ আসনেই নয়, বিভাগের অন্যান্য আসনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন সিলেটের সাবেক ও বর্তমান এই দুই মেয়র। মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে এসেছেন আরিফুল হক। আর মঙ্গলবার সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পক্ষে প্রচারণা চালান বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ওই এলাকার বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালান তিনি।রাজনৈতিক সংশ্লিস্টমহল মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী না হয়েও দলের জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখবেন আরিফুল হক চৌধুরী ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সিলেটে এই দু’জনের রয়েছে নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা, রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে তাঁরা দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের কেমন আকৃষ্ট করতে পারেন, তার উপরও নির্ভর করবে দলের প্রার্থীদের জয় পরাজয়। ফলে প্রার্থী না হলেও এই নির্বাচন আরিফ বনাম কামরানেরও।এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগে কোনো বিভক্তি নেই। স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন এক নয়। এই নির্বাচনে সিলেটবাসী উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা প্রতীকেই ভোট দেবেন। সিলেট আওয়ামী লীগও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। পুণরায় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।আর বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট বিএনপি সবসময়ই ঐক্যবদ্ধ। সেটা গত সিটি নির্বাচনেই প্রমাণিত হয়েছে। মানুষ যদি ভোট দেওয়ার সামান্যতম সুযোগও পায় তাহলেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd