সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্ত্রাকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরোদ্ধে। আর এই অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাই এই নিয়োগ বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানাযায়,জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের সুনামধন্য পলাশ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২সালে প্রতিষ্টিত হয়। এর পর থেকে সুনামের সাথেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাকারীক পদটি ২০১৫সাল থেকে র্দীঘ ৩বছর যাবৎ শুন্য আছে। শূন্য পদে একজন সহকারী গ্রন্থাকারীর নিয়োগ করার জন্য গত কয়েক বছর যাবৎ অর্থের বিনীময়ে অপকৌশলে সুযোগ নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও সভাপতি জুলহাস মিয়া। তারা শূন্য পদটি পূরন করার জন্য ২০১৭সালে শেষ দিকে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর প্রার্থীদের সাথে টাকার পরিমানে মিল না হওয়ায় সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এর পর চলতি বছরের জুলাই মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নিয়োগ কমিটির গঠনের জন্য স্কুল কমিটির সবাইকে নিয়ে বসা হলে সঠিক ভাবে,স্কুলের শিক্ষক সদস্য দুজনকে নিয়োগ কমিটিতে রাখার দাবী থাকলেও কাউকে সদস্য করা হয় নি ও সরকারী নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ কমিটি গঠন না করার ফলে এই মিটিং সুষ্ট ভাবে সমাধান হয় নি। না হওয়ায় কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম,খালেদা বেগম,আক্কাছ আলী,রুবেল আহমেদ মিটিং ত্যাগ করে চলে যান। এর পর আর কোন স্কুল কমিটির মিটিং করা হয় নি। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির নিজে নিজে নিয়োগ কমিটি গঠন করে ১২,০৭,১৮ইং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সিলেটের একটি পত্রিকায় প্রকাশ করে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে চলতি মাসের ১৩ডিসেম্ভর। পরীক্ষায় অংশ নিবেন ৩৩জন পরীক্ষার্থী। নাম প্রকাশে একাধিক পরীক্ষার্থী জানান,আমি একজন পরীক্ষার্থী কিন্তু আমি জানি না পরীক্ষা হচ্ছে। আমি কোন কারনে বাতিল বা অযোগ্য হলাম তাও জানি না। শুনেছি এই নিয়োগ অর্থের বিনীময়ে হচ্ছে তাই সঠিক,যোগ্য প্রার্থীর এখানে মূল্যায়ন হবে না। তাই এই নিয়োগ পরীক্ষা জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে অথবা বাতিল করার দাবী করছি। এই দাবীর সাথে ঐক্যমত পোষন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক,অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে এক অভিভাবক সদস্য আক্কাছ আলী ক্ষোবের সাথে বলেন,স্কুল কমিটির যে নিয়োগ দিচ্ছে তা আমরা কেউ জানি না। এই নিয়োগে এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। টাকার পরিমান মন মত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি এর পূর্বেও একটি নিয়োগও বাতিল করেছেন। শুধু তাই নয় গত বছর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ায় অভিযোগে বুধবার(১১,১২,১৮)উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্য্যালয়ের মিটিং হবে। আর দুদক থেকে তর্দন্ত ও হবে। এছাড়াও স্কুলের মাঠ বরাট করার জন্য এক লাখ টাকা সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি শামসুন নাহার শাহানা রব্বানী বরাদ্ধা দিলেও সেই টাকা কোন কাজেই লাগায় নি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এছাড়াও তাদের বিরোদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে আমি সবার সামনেই বলতে পারব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন,আমার বিরোদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি কোন অনিয়ম করে নি। সহকারী গ্রন্ত্রাকারীক নিয়োগ হবে সঠিক ভাবে। মেধা অনুযায়ী নিয়োগ করা হবে। কোন অনিয়ম হবে না। পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুলহাস মিয়া বলেন,আমি কোন অনিয়মের সাথে জরিত নই। যা হচ্ছে তা সঠিক ও সরকারী নিয়ম অনুযায়ী হবে। কোন অনিয়ম হবে না। নিয়োগে টাকার বিষয়ে বলেন,তারা কোথা থেকে এমন খবর পেল জানি না। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মোঃ সারোয়ার আলম বলেন,নিয়োগে কোন অনিয়ম হবে এমন কোন তথ্য আমার কাছে নেই। তারপরও কমিটি গঠন না হয়ে থাকলে স্কুলের রেজুলেসন দেখব। এছাড়াও কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে আমি খোজঁ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd