এক পর্যায়ে সোহাগ জানতে পারে যে, তালাকের পরও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে রেখা। তবে কেবল শুভ নয় একই সময়ে আরো বেশ কয়েকজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে রেখা। এই বিষয়টি সোহাগ রেখার প্রেমিক শুভকে জানায়। শুভও এই কথা শুনে বেশ ক্ষিপ্ত হয় রেখার উপর। এরপর সোহাগ ও শুভ রেখাকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এক সময় তারা রেখাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা মাফিক ঘুরতে যাবার কথা বলে শুভ মারফত রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট এলাকায় রেখাকে ডেকে আনা হয়। এরপর সাবেক স্বামী সোহাগ ও প্রেমিক শুভ মিলে খুন করে রেখাকে। খুন করে ৩০০ ফিট এলাকাতেই রেখার লাশ ফেলে চলে যায় তারা।
মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ১৫৪ ধারায় হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সাবেক স্বামী কাউসার আহম্মেদ খান ওরফে সোহাগ।
অন্যদিকে ঘটনার আরেক হোতা রেখার প্রেমিক শুভকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিবির পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, গতকাল আদালতে রেখার সাবেক স্বামী সোহাগ জবানবন্দি দিয়েছে। সে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে এবং প্রেমিক শুভর সম্পৃক্ততার কথাও জানিয়েছে। তবে আমাদের ধারণা এই ঘটনার সাথে আরো অনেকে সম্পৃক্ত রয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার ৩‘শ ফিটের পাশে ১০ নম্বর সেক্টরে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে অজ্ঞাত পরিচয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, বিপিএম, পিপিএম (বার)। তদন্তের দায়িত্ব পড়ে ডিবির পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিনের উপর।
এদিকে জানা যায়, অজ্ঞাত লাশটি রাজধানী ঢাকার বনশ্রী ব্লক এলাকার বাসিন্দা এস এম রফিকের মেয়ে শাহীনা আক্তার রেখার। তদন্তের সাপেক্ষে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সন্দেহভাজন রেখার সাবেক স্বামী ও প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে সাবেক স্বামী সোহাগ। পরবর্তীতে আদালতেও ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। অন্যদিকে প্রেমিক শুভ রিমান্ডে রয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত রেখার স্বামী ও প্রেমিক শুভ একই এলাকা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ইছাইল এলাকার বাসিন্দা।




