সিলেট-৩ আসন : ঋণ খেলাপি শফিকে নিয়ে তৃণমূলে তোলপাড়

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

সিলেট-৩ আসন : ঋণ খেলাপি শফিকে নিয়ে তৃণমূলে তোলপাড়

Manual8 Ad Code

বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য ৩ প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইতিমধ্যে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গেছে। মহাজোট প্রার্থী ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আ‘লীগে চরম হতাশা ক্ষোভ এখন বাস্তবতা। বলতে গেলে ভোট রাজনীতিতে কঠিন সংকটে দলের এ প্রার্থী। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে। দ্বন্ধ ও দূরত্বের সুরাহা অনিশ্চিত। সিলেটের কৌশলগত অবস্থানগত কারণে এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ নিয়ে এ আসনের সীমানা। দক্ষিণ সুরমা এলাকা সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার। তাই যেকোন দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম স্থান হলও এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ। সেকারণে প্রার্থী মনোনয়নে এ গুরুত্ব বিবেচনায় না রাখলে পরবর্তীতে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়তে হয়।
এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে মহাজোট। এখন অপেক্ষা চলছে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে। মনোনয়নে কতটুকু কারিশমা দেখাতে পারে দলটি।
দলের একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এ সালাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক-সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। জল্পনা-কল্পনা এই প্রার্থীদের নিয়ে এখন দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে। শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী যখন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তখনকার পেক্ষাপট বর্তমান একেবারে ভিন্ন। দেশ ও রাজনীতিতে এসেছে অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন। আগামী নির্বাচন বিএনপি জন্য ভোট ও রাজপথের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের পূর্বে-পরে কঠিন পরীক্ষায় মুখোমুখি হতে হবে নেতাকর্মীদের। সেকারণে ভরসাপূর্ণ ও আস্থাশীল প্রার্থী খুঁজছে নেতাকর্মীরা। কর্মী বান্ধব প্রার্থী ছাড়া কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেনা তারা।
প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরীর ঋণ খেলাপি মামলা চলমান। ঢাকার তেজগাঁও শাখার পূবালী ব্যাংককে এলাবার্ট ডেবিড বাংলাদেশ লি: নামে খেলাফি হয়েছেন শফি চৌধুরী। অর্থঋণ আদালতে মামলা নং ৪৫/০৩। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যাংক। আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেন তিনি। আপিল মামলা কোট নং ১০ এর শুনানি সিলেটের কৃতিসন্তান বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও কাজী মো: ইজারুল আকন্দের আদালতে আজ। কিন্তু আদালত ১ (এক) সপ্তাহ পর শুনানির দিন ধার্য করেছেন (হাইকোটের মামলা নং ৩৩৭/১৭ইং, শুনানির ক্রমিক নং ৩৩)। শফি আহমদ চৌধুরী ঋণ খেলাফি অবস্থায় ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি নির্বাচনের পূর্বে ঋণ খেলাফি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন করে থাকেন। এবারও সেই চেষ্টা করছেন। কোন অবস্থায় স্থগিতাদেশে ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে দলে। এছাড়া বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারকালীন তার গ্রামের বাড়ির পুকুর থেকে ত্রাণের টিন ও প্রোটিন বিস্কুট উদ্ধার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ইমেজ সংকটে পড়েন তিনি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের জন্য বিষয়টি বিরোধিতার খোরাকে পরিণত হয়। রাজনীতির জীবনে তিনি ৬ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৮৬ সালে রিক্সা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করলে ১৯৯১, ১৯৯৬ (২ বার), ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০০১ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। তিনি ১/১১ এর স্বৈরশাসক ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনকে কিছুদিন পূর্বে তার আমেরিকার বাসায় নিয়ে দাওয়াত খাওয়ান। বিগতদিনে টকশোতে তিনি গর্বের সাথে বলেছিলেন, দুনীতি মামলায় ১/১১ এর সময় খালেদা-তারেক জিয়া সহ অনেক নেতারাই জেল কাটলেও আমি জেল কাটেনি, নির্দোষ খালাস পেয়ে একদিনে মামলা শেষ করে বের হয়েছি। তার এসব কথায় দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের মূল হোতা হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করেন দেশবাসী। তার কারনেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে অনাহারে মারা যান। এমনকি তার বাসা ও ঢাকা মতিঝিলের অফিসে হামলা, ভাংচুর চালিয়ে অফিস জালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় তার দেশে আসা নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারকে তার ভাইয়ের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষের ত্রান আত্মসাতের কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেশে আসেন। আর এসব কারনেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম সমালোচিত রয়েছেন তিনি। এখন নতুন করে বিষয়গুলো উঠে আসছে ভোটের মাঠে।
দলের দায়িত্বশীল ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, দলের এই কঠিন দুঃসময়ে যদি শফি চৌধুরীর মতো সমালোচিত ব্যক্তিকে টাকা বাণিজ্যের মাধ্যমে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাহলে দলের প্রতি আস্থা আর বিশ্বাস কমে যাবে নেতাকর্মীদের।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম.এ হক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও দেশের সফল সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পিএস আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এ সালাম।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..