সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৮
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদ পাঠিকাকে ৬৪ টুকরা করার হুমকি দেয়ার ঘটনা তদন্তে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) শাহাব উদ্দিন কোরেশীকে আহ্বায়ক করে এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ এপ্রিল যুগান্তরে ‘সংবাদ পাঠিকাকে সপরিবারে হত্যার হুমকি ডিআইজি মিজানের, ‘আমার কথা না শুনলে ৬৪ টুকরা কবর’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সদর দফতর ডিএমপি কমিশনারের কাছে পত্রিকার ক্লিপিং সংযুক্ত করে দাফতরিকপত্র দেন।
এরপর ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শাহাব উদ্দিন কোরেশীকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটি যুগান্তরের প্রতিবেদক নেসারুল হক খোকনকে তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানায়। এরপর গত ২১ মে সোমবার প্রতিবেদক ডিএমপি কার্যালয়ে শাহাব উদ্দিন কোরেশীর কার্যালয়ে গিয়ে সংবাদ পাঠিকাকে দেয়া ডিআইজি মিজানুর রহমানের হুমকির অডিও হস্তান্তর করেন।
একই দিনে ভুক্তভোগী সংবাদ পাঠিকার ব্যবসায়ী স্বামীও ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) শাহাব উদ্দিন কোরেশীর কার্যালয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ডিআইজি মিজান কর্তৃক তার নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি তদন্ত কমিশনকে জানিয়েছেন।
এর আগে পত্রিকায় কিআর কোডে সংযুক্ত করে দেয়া ভয়াবহ সেই অডিও নিয়ে দেশ-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। অডিওটি ভাইরাল হয়ে ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ পাঠিকাকে উদ্দেশ করে ডিআইজি মিজান বলেন, ‘তোর জামাইরে বের হতে বল। টুকরা টুকরা করব। আর তোরে করব ৬৪ জেলায় ৬৪ টুকরা। আমার কথার বাইরে যদি চলস তোকে আমি মাইরা ফালামু। এখন তুই আত্মহত্যা করবি। না হলে তোরে মাইরা ফালামু আমি। পৃথিবীর কোনো শক্তি নাই তোকে বাঁচায়। তোরে পাহারা দিতে ১০টা মোটরসাইকেল থাকবে।আমার বিরুদ্ধে কথা বলবি না? জিডি কইরা রাখছি উত্তরা পশ্চিম থানায়। তুই আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লাইক দিবি এ কারণে জিডি কইরা রাখছি।’
এরপর ওপাশ থেকে কেঁদে কেঁদে সংবাদ পাঠিকা বলছেন, ‘আপনার যা কিছু করার করেন। আমি ইকো না।’
এর জবাবে ডিআইজি মিজান বলেন, ‘তা হলে আয়, আমার কাছে আয়।’
এ কথার পর সংবাদ পাঠিকা কেঁদে উঠলে আবারও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘২৮ বছরের চাকরি জীবন ধ্বংস করেছিস। সরি বল কিচ্ছু বলব না।’
জবাবে সংবাদ পাঠিকা বলেন, ‘আমার গলায় ছুরি লাগালেও বলব আমি কিছু করিনি।’
আবার উত্তেজিত কণ্ঠে মিজান বলেন, ‘৬৪ টুকরা করব তোকে। তোর মাথা থাকবে জিরো পয়েন্টে। তোর যদি সাহস থাকে আবার বাইরে আয়। তোকে যেখানে চাকরি দেয়া হবে সেখানে অশ্লীল ছবি যাবে তোর।’
র্যাবের দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মিজান বলেন, ‘…ওদের বল তোকে বাঁচাইতে। তবে আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে চল তাহলে পৃথিবীর কোনো মানুষ তোকে টাচ করতে পারবে না।
https://www.youtube.com/watch?v=qykS87ou1zs
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd