জৈন্তাপুরে ছিদ্দিকের অবৈধ বালু উত্তোলন: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে শত শত বিঘা ফসলি জমি

প্রকাশিত: ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

জৈন্তাপুরে ছিদ্দিকের অবৈধ বালু উত্তোলন: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে শত শত বিঘা ফসলি জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের রূপচেং ও গোয়াবাড়ী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে কৃষি জমি ধ্বংস, নদীর নাব্যতা হ্রাস এবং ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বড়গাং নদী থেকে অবাধে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার ফলে আবাদি জমিগুলো এখন বালুর চরে পরিণত হচ্ছে।

‘অদৃশ্য ম্যানেজার’ সিদ্দিক ও বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড়গাংয়ের ইজারাদারের পক্ষে পর্দার আড়ালে ‘অদৃশ্য ম্যানেজার’ হিসেবে কাজ করছেন সহকারী ইজারাদার ছিদ্দিক আহমদ। তাঁর সরাসরি নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানেই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একজন সাবেক ওয়ার্ড সদস্যের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বছরের পর বছর যেসব জমিতে বোরো ধান ও শীতকালীন সবজি চাষ হতো, তা এখন বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং অস্বাভাবিক খননের ফলে পাশের ফসলি জমিতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে বন্যার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

একজন ভুক্তভোগী কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এই জমি থেকে সারা বছরের ফসল পাই। কিন্তু বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমিগুলো এখন বালুচাপায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা ও প্রশাসনের নীরবতা
স্থানীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এমনকি অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে এক সাংবাদিক হামলার চেষ্টার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী কৃষকরা অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জনরোষ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং স্থায়ীভাবে কৃষি হারাবে এই জনপদ।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28  

সর্বশেষ খবর

………………………..