সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় গরু ও মহিষের বাজারগুলোতে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে তরিকুল নামের এক ব্যক্তির নাম, যে নিজেকে ‘পুলিশের লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে প্রতিটি পশুর হাট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জৈন্তাপুর গরু বাজারে আসা প্রতিটি ভারতীয় গরু ও মহিষের ওপর নির্দিষ্ট হারে চাঁদা ধার্য করেছে তরিকুল। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে প্রতিটি ভারতীয় গরু থেকে ১ হাজার টাকা। প্রতিটি ভারতীয় মহিষ থেকে ১৫শ’ টাকা করে আদায় করা হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আসা এসব গবাদিপশু হাটে তোলা মাত্রই তরিকুল ও তার সহযোগীরা টাকা আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। টাকা না দিলে পুলিশি হয়রানি ও মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয় বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
সাধারণত পুলিশের সোর্স বা বিশেষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত এই ‘লাইনম্যান’ প্রথাটি অবৈধ হলেও তরিকুল তা প্রকাশ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে। সে দাবি করে, সংগৃহীত এই টাকার একটি বড় অংশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই একটি চক্র তরিকুলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, “এমনিতেই সীমান্তে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়, তার ওপর হাটে আসার পর তরিকুলকে গরু প্রতি হাজার টাকা করে দিতে গিয়ে আমাদের লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।”
এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, পুলিশের কোনো দাপ্তরিক ‘লাইনম্যান’ নেই। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাপুরের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে তরিকুলসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd