সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ১০ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

সিলেটে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ১০ নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেটে শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়ার লড়াই। দলীয় মনোনয়ন পেতে ও লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চার জেলার অন্তত ১০ জন নারী নেত্রী। সিলেট বিভাগে সংরক্ষিত নারী আসনে মূলত দুইজনের ভাগ্য খুলতে পারে-এমন গুঞ্জনে মাঠের রাজনীতি ও কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রার্থীরা।

তৃণমূল ও কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের জন্য যে ১০ নেত্রীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে তারা হলেন-সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ, সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান পপি, অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, সামিয়া বেগম চৌধুরী, তাহসিন শারমিন তামান্না, জেবুন নাহার সেলিম ও সালমা নজির।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার অভিজ্ঞতার নিরিখে এগিয়ে রয়েছেন। বিগত ১৭ বছর দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক শারীরিক অসুস্থতা তার জন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতা হতে পারে।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা হিসেবে এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এলাকায় সক্রিয় থাকায় তার প্রতি নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের সমর্থন রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় উন্নয়নের স্বার্থে তারা সামিরাকে এমপি হিসেবে দেখতে চান। সামিরা তানজীন চৌধুরী দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে আইনী পেশায় সংযুক্ত ছিলেন।

সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে পাল্লা দিচ্ছেন দুই নেতার দুই কন্যা। সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান পপি। আদিবা হোসেন পিতার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক উত্তরাধিকার সামলানোর পাশাপাশি ভোটের মাঠে বড় শোডাউন দিয়ে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে পপিও বাবার মতোই মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ সিলেটে মহিলা দলের দুর্দিনের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত। গত নির্বাচনে সিলেট-১ ও ৩ আসনে নারী ভোটার টানতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী জ্যেষ্ঠতার বিচারে এবং কঠিন সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নিও সমানতালে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন ও জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না পারিবারিক ত্যাগের কারণে আলাদা সহমর্মিতা পাচ্ছেন। এছাড়া সাবেক এমপি মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম স্বামীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে জোরালো দাবিদার।

সুনামগঞ্জ থেকে সাবেক তিনবারের এমপি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেনের সহধর্মিণী সালমা নজিরের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ভাটি অঞ্চলে বিএনপির ৩১ দফা প্রচার ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে পাশে থাকায় তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।

সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাদের পরিবার, রাজপথের সক্রিয়তা এবং উচ্চ শিক্ষিত পেশাজীবীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তা নিয়ে এখন চার জেলায় বইছে জল্পনা-কল্পনার ঝড়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28  

সর্বশেষ খবর

………………………..