সিলেট ২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৪
ক্রাইম প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার- মোকামপুঞ্জি, আলু বাগান, শ্রীপুর, মিনার টিলা, ডিবির হাওড় ও মুক্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তের ভারতীয় গরু-মহিষ ‘চোরাচালান’ সাম্রাজ্যের কিং হচ্ছেন দুই কুতুব। এই সীমান্ত গুলোর চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধান করলেই দফায় দফায় উঠে আসে জেলা ডিবি পুলিশের উত্তর জোনের লাইনম্যান খ্যাত নজরুল ইসলাম ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের লাইনম্যান খ্যাত মুজিবুর রহমানের নাম।
এই দুই কুতুবের ইশারায় চলে মোকামপুঞ্জি, আলু বাগান, শ্রীপুর, মিনার টিলা, ডিবির হাওড় ও মুক্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে ভারতীয় গরু-মহিষ চোরাকারবারিদের নিকট হইতে জেলা ডিবি পুলিশের উত্তর জোন ও থানা পুলিশের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির মহোৎসব। এই সীমান্ত গুলোতে একক আধিপত্য বিস্তার করে এই দুই কুতুব অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। রাতারাতি বনেও গেছেন কোটি টাকার মালিক। তাই এই দুই কুতুবকে বলা হয় সীমান্তের ‘চোরাচালান’ সাম্রাজ্যের কিং।
অনুসন্ধানে ওঠে আসে ‘চোরাচালান’ সাম্রাজ্যে কিং খ্যাত এই দুই কুতুবের পরিচয়। উপজেলার বাওয়ন হাওড় গ্রামের সাঈদ আলীর পুত্র ডিবি পুলিশের লাইনম্যান নজরুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার পুত্র থানা পুলিশের লাইনম্যান মুজিবুর রহমান।
জানা গেছে- মোকামপুঞ্জি, আলু বাগান, শ্রীপুর, মিনার টিলা, ডিবির হাওড় ও মুক্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে প্রতিরাতে গরু-মহিষ চোরাকারবারিদের নিকট হইতে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের নামে প্রকাশ্যে চাঁদা উত্তোলন করছেন এই দুই কুতুব। তবে এসব নিয়ে যেনও অদৃশ্য কারণে কোন মাথা ব্যাথা নেই জেলা ডিবি পুলিশের উত্তর জোনের ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। অভিযোগ রয়েছে এই দুই কুতুবের সঙ্গে গভীর দহরম-মহরম রয়েছে জেলা ডিবি পুলিশের উত্তর জোনের ওসি ও থানা পুলিশের ওসির সঙ্গে। তাদের আর্শীবাদেই এই দুই কুতুব ভারতীয় গরু-মহিষ ‘চোরাচালান’ সাম্রাজ্যে কিং হিসেবে সুনাম লাভ করেছেন। ফলস্বরূপ এই দুই কুতুব ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের নামে অনায়াসে চালাচ্ছেন চাঁদাবাজি।
আরোও জানা গেছে- মোকামপুঞ্জি, আলু বাগান, শ্রীপুর, মিনার টিলা, ডিবির হাওড় ও মুক্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে প্রতি রাতেই চোরাই পথে অবৈধ ভাবে আসছে অসংখ্য ভারতীয় গরু-মহিষের চালান। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় জমজমাট হয়ে উঠছে অবৈধ গরু-মহিষের ব্যবসা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় খামারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ এসব গরু-মহিষের পেঠে করে দেশে আনা হচ্ছে ইয়াবার বড় বড় চালান। এ কারণে সক্রিয় হয়ে উঠছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে মোকামপুঞ্জি, আলু বাগান, শ্রীপুর, মিনার টিলা, ডিবির হাওড় ও মুক্তাপুরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তের চোরাই পথে আসা ভারতীয় এসব অবৈধ গরু-মহিষের চালান থেকে ডিবি পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়ে নজরুল ইসলাম ও থানা পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়ে মুজিবুর রহমান’র বিরুদ্ধে চাঁদা আদাযের অভিযোগ নিত্য দিনের।
মুজিবুর রহমান পেশায় একজন পাথর শ্রমিক ছিলেন। একটা সময় অভাব অনটনের মধ্যে খেয়ে না খেয়ে দিন চলত তার। গত কয়েক বছরে থানা পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে বনে গেছেন অঢেল সম্পদের মালিক বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান- স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সু-সর্ম্পক থাকার কারণে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের লাইনম্যান পরিচয়দানকারী নজরুল ও মুজিব রয়েগেছে ধরাছুয়ার বাইরে। ফলে সীমান্ত এলাকাটি পরিণত হয়েছে অপরাধী চক্রের স্বর্গরাজ্যে। সচেতন মহলের দাবি মুজিবুর রহমানের পার্সনাল দু’টি বিকাশ একাউন্টে রয়েছে। একাউন্ট দুটিতে ভারতীয় অবৈধ গরু-মহিষের চালান থেকে গত এক বছরে চাঁদার টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন রয়েছে। একজন পাথর শ্রমিক হঠাৎ করে এত অঢেল সম্পদের মালিক হলেন কিভাবে? বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমানের ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে উভয়ে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তাজুল ইসলাম পিপিএম এর সরকারি সেলফোনে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশের উত্তর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকাবাল হোসেনের সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ক্রাইম সিলেটকে জানান- এই নামের কাউকে তিনি চিনেন না তবে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
চলমান সংবাদ।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd